

চীন ও জাপানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে জাপান থেকে শেষ জায়ান্ট পান্ডাজোড়া ফিরিয়ে নিচ্ছে চীন। টোকিওর উয়েনো চিড়িয়াখানায় থাকা যমজ পান্ডাশাবক শাও শাও ও লেই লেই মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) চীনে ফেরত যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো পান্ডাশূন্য হতে যাচ্ছে জাপান।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পান্ডা দুটিকে বিদায় জানাতে রোববার উয়েনো চিড়িয়াখানায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা শেষবারের মতো পান্ডাশাবক দুটিকে দেখেন। অনেককে চোখের জল ফেলতেও দেখা গেছে।
টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের তথ্যানুযায়ী, পান্ডাগুলোকে শেষবার দেখার জন্য প্রায় এক লাখ আট হাজার মানুষ আবেদন করেছিলেন। তবে দৈনিক দর্শনার্থী সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকায় মাত্র ৪ হাজার ৪০০ জন প্রবেশের সুযোগ পান।
২০২১ সালে উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া শাও শাও ও লেই লেইয়ের মা শিন শিন এবং বাবা রি রি। প্রজনন গবেষণার অংশ হিসেবে এ পান্ডাগুলো জাপানে ধার দেওয়া হয়েছিল। চীনের নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া পান্ডাশাবকের মালিকানাও চীনেরই থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, পান্ডা ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে চীন-জাপানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তবে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ বক্তব্যের পর দ্রুত দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে পান্ডা কূটনীতি অনুসরণ করে আসছে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটি মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রতীক হিসেবে পান্ডা পাঠালেও এগুলো প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘমেয়াদি ধার। পান্ডা গ্রহণকারী দেশগুলোকে প্রতি জোড়ার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার ফি দিতে হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে চীন ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জাপানে পান্ডা পাঠিয়েছিল বেইজিং। তবে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন করে জাপানে পান্ডা ধার দেওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে শত্রুতামূলক বক্তব্য ও পদক্ষেপ বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে চীন জাপানে বিরল খনিজ-সম্পর্কিত পণ্যের রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন