

সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক দম্পতির বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পরিচয়ে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করেছেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ দিল্লির নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ওই পরিবারের গৃহকর্মী। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ উষা সাবহারওয়ালের বাড়িতে প্রবেশ করেন তারা। দরজা খুলতেই নিজেদের ইডির কর্মকর্তা পরিচয় দেন তিন ব্যক্তি। তারা জানান, বাড়িতে তল্লাশি চালানো হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করা হবে।
এরপর একজন ভিডিও করতে শুরু করেন, অন্যজন আলমারি থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী বের করতে থাকেন। তৃতীয় ব্যক্তি ভুয়া ইউনিফর্ম পরে বাড়ির মালিক আরসি সাবহারওয়াল ও তার স্ত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। তারা ঘর থেকে ৩-৪ লাখ টাকা নগদ, সাতটি দামী ঘড়ি ও কিছু গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উষা সাবহারওয়ালের কাছে আরেকটি ফোন ছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা তা বুঝতে পারেনি। তিনি বাথরুমে গিয়ে তার নাতি গৌরবকে ফোন করেন। এসময় তিনি এগিয়ে আসার খবরে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে প্রতারকরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
তদন্তে দেখা যায়, গৃহকর্মী রেখা দেবী এবং তার ননদ পূজা রাজপুত এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। রেখা দেবী গত দুই বছর ধরে সাবহারওয়াল পরিবারের বাড়িতে কাজ করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পূজার স্বামী মনীশ আধাসামরিক বাহিনীর কনস্টেবল, ভুয়া ইউনিফর্ম, ব্যাজ ও আইডি কার্ড জোগাড় করেন। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। এটির লাইসেন্স ২০১৯ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। অভিযুক্তরা একটি নীল রঙের বলেরো গাড়িতে করে বাড়িতে আসে।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির সারিতা বিহার এলাকার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ঐশ্বয্য শর্মা জানান, ৩০০-র বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গাড়িটির অবস্থান গাজিয়াবাদের বৈশালী সেক্টর-৪-এ শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ গাজিয়াবাদে পৌঁছে পূজা রাজপুতকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ও রেখা দেবী ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মনীশ, উপদেশ থাপা ও তার ছেলে এখনও পলাতক রয়েছেন।