

গাজার ভবিষ্যৎ ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার ইসরায়েলে পৌঁছান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ‘নিউ গাজা’ নামে একটি নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। এতে গাজাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনায় আবাসিক টাওয়ার, ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টার অংশ। তবে একাধিকবার লঙ্ঘনের ঘটনায় এই যুদ্ধবিরতি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
এদিকে গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে, উত্তর গাজায় পৃথক দুটি ঘটনায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর গাজায় তাদের অভিযানের সময় কয়েকজন যোদ্ধাকে শনাক্ত করা হয়। সেনাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে এলাকায় বিস্ফোরক পুঁতে সেনাদের দিকে এগিয়ে আসছিল, যা তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাদের গাজার প্রায় পুরো দৈর্ঘ্যজুড়ে সামরিক মানচিত্রে চিহ্নিত ‘ইয়েলো লাইন’-এ অবস্থান নেওয়ার কথা ছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, শনিবার তারা কেবল একটি ঘটনার কথা জানে এবং সেখানে শিশু জড়িত ছিল না।
গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন মাঠপর্যায়ের এই সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মন্তব্য করুন