

প্রথম সাফ মুকুট জয়ের পর ২০২২ সালে সাবিনাদের ঘিরে আবেগ-উচ্ছ্বাসে মেতেছিল ঢাকাবাসী। সে উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি ২০২৪ সালে শিরোপা ধরে রেখে দেশে ফেরার পর। তাতে কি! সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন হওয়া সাবিনা খাতুনদের জন্যও থাকছে ছাদখোলা বাস।
এবারের সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্যদের থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরে দেখানো হয়েছে। যে কারণে পুরুষ দল ফিরলেও নারী দলের বিলম্ব হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে সাবিনা খাতুন-কৃষ্ণা রানী সরকারদের।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব কালবেলাকে বলেছেন, ‘নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন দলকে বরণে প্রস্তুত করা হয়েছে ছাদখোলা বাস। সন্ধ্যায় ঢাকায় নামার পর বিজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এবারের সাফল্যটা সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও নিলুফার ইয়াসমিন নীলার জন্য অন্য রকম। ২০২৪ সালে সাফ জয়ের পর জাতীয় নারী ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছিটকে যান একঝাঁক সিনিয়র ফুটবলার। যার অন্যতম উল্লিখিত পাঁচজন। উপেক্ষিত ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ফুটসাল দলে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন সাবিনা খাতুন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সর্বস্ব উজাড় করে ভালো কিছুর জন্য চেষ্টা করবেন। সে চেষ্টার ফল হিসেবে নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ মুকুট জয়ের পথে অপরাজিত ছিল লাল-সবুজরা। একই সঙ্গে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুরুষ সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। আসরে বাংলাদেশ অবশ্য ভালো করতে পারেনি।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে হারিয়েছে ভারতকে। পরের ম্যাচেই অবশ্য ধাক্কা খেতে হয়েছে— ভুটানের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে শেষদিকের নাটকীয়তায় ৩-৩-এ ড্র করে বাংলাদেশ। এ ধাক্কার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে যাত্রা শুরু। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে শিরোপার আরও কাছে চলে যায় লাল-সবুজরা। শেষ ম্যাচে দুর্বল মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে শিরোপা জয়ের উল্লাস করেছে বাংলাদেশ।
শিরোপা জয়ের মিশনে ব্যক্তিগত পুরস্কারেও ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। সর্বোচ্চ গোল করেছেন সাবিনা খাতুন। আসরে তার গোলসংখ্যা ছিল ১৪। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বাংলাদেশেরই কৃষ্ণা রানী সরকার। তার গোলসংখ্যা ছিল সাবিনা খাতুনের অর্ধেক ৭। ভারতের খুশবুর গোলসংখ্যা ছিল কৃষ্ণা রানী সরকারের সমান।
মন্তব্য করুন