

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যায় ইরানের একটি নতুন ও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সিএনএন-এর বরাতে এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই এই গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটনের হাতে পৌঁছায়। এতে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষণ করছিল। তবে ইসরায়েলের সর্বশেষ তথ্যটি ছিল নতুন এবং এটি একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করে।
ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে তেহরান। সোলাইমানি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন।
সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে জানেন এমন দুটি সূত্র দাবি করেছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নজর রাখছে, যারা হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সূত্র দাবি করেছে, ইরান বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে নিশানা করতে পারে। তবে সূত্রটি এও দাবি করেছে, আংশিকভাবে ইসরায়েলের এই প্রতিবেদনটিকে ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার যুদ্ধবাজ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বৃহত্তর অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার কেউ কেউ সব সময়ই ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ব্যাপারে সন্দিহান থাকেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।
বুধবার ন্যাটো সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে, অর্থাৎ আমাকে হত্যা করতে চায়। আমি তাদের তালিকায় আছি। আজ সকালে দেখেছি, আমি তাদের সব তালিকাতেই আছি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে ফেরার সময় নতুন উড়োজাহাজের পরিবর্তে পুরোনো প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ ব্যবহার করেন বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে তার বিরুদ্ধে অতীতের কথিত হত্যাচেষ্টার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।