

সংঘাতকবলিত মিয়ানমারে গতকাল রোববার সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিন পর্বে নির্বাচন শেষ হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী বলছে, জান্তা পরিচালিত ভোটে প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ভূমিধস বিজয়ের পথে। সমালোচকরা বলছেন যে এটি শুধু সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল আরও দীর্ঘায়িত করবে। দেশটির সামরিক শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে জেনারেলরা এক দশক ধরে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন সংস্কারের জন্য আড়ালে অবস্থান নিয়েছিলেন।
রয়টার্স বলছে, জান্তাপ্রধান একটি রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগের দুই পর্বের ভোট ২৮ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি গ্রহণ করা হয়। এই পর্বগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৫৫ শতাংশের মতো ছিল বলে দাবি সামরিক কর্তৃপক্ষের।
দেশটির তুমুল জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সু চিকে কারাবন্দি এবং তার দল বিলুপ্ত করা হয়েছে। এজন্য গণতন্ত্রপন্থিরা বলছেন, এ ব্যালট শুধু সামরিক মিত্রদের জন্য নির্ধারিত। ৩৪ বছর বয়সী ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা বলেন, এ নির্বাচন থেকে আমি কিছু আশা করি না। এ বিষয়গুলো (নির্বাচন) তাদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াবে।
এই পর্বে দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন ও গুরুত্বপূর্ণ শহর মান্দালয়সহ ৬০টি শহরে ভোট গ্রহণ করা হয়। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের মধ্যেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতিসংঘসহ অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যায়িত করে এক ‘সামরিক বাহিনীর দখল টিকিয়ে রাখার মহড়া’ বলে উল্লেখ করেছে।
মন্তব্য করুন