চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিদ্রোহী ভাড়াটে সেনাবাহিনী ওয়াগনার গ্রুপকে দমনে তার বাহিনী প্রস্তুত। ওয়াগনারকে থামাতে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করা হবে। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব বলেন। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।
বিবৃতিতে ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগিনি প্রিগোজিনকে বিশ্বাসঘাতক ও তার বিদ্রোহকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করার শামিল হিসেবেও বর্ণনা করেছেন কাদিরভ। এ সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন বিদ্রোহ নিয়ে যা যা বলেছেন সেগুলোকে সমর্থন করেন বলেও জানান। চেচেন নেতা বলেন, বিদ্রোহ অবশ্যই চূর্ণ করতে হবে। এ জন্য যদি কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তবে আমরা প্রস্তুত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ডের চেচেন যোদ্ধারা এরই মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলে চলে গেছে বলেও যোগ করেন তিনি।
২০০৭ সাল থেকে চেচনিয়া শাসন করে আসছেন রমজান। ২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা পুতিনের আস্থাভাজন হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। ওয়াগনার সেনাদের মতো চেচেন সেনারাও ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। সে সময় প্রিগোজিন ও কাদিরভের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে প্রিগোজিন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করায় তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় রমজানের।
ওয়াগনার গ্রুপের সেনাদের উদ্দেশে কাদিরভ এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, আমি যোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—দেশপ্রেমিক রুশ সৈন্যদের কোনো উসকানি দেবেন না। আপনাদের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, যে কথাই দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে আমাদের দেশের নিরাপত্তা এবং রুশ সমাজের সংহতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হুমকির সুরে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এরই মধ্যে চেচেন সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিদ্রোহ অবশ্যই চূর্ণ করতে আমরা প্রস্তুত আছি।
এর আগে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি সেনা সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করে রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার। এ ছাড়া দেশটির রাজধানী মস্কোর দিকে এগিয়ে যাওয়া ও বর্তমান সামরিক নেতাদের ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দেন বাহিনীটির প্রধান প্রিগোজিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, রুশ সেনাবাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলের সেনা সদর দপ্তরে বিচরণ করছে ওয়াগনার সেনারা। আর এর ভেতরে অবস্থান করছেন প্রিগোজিন। এই সদর দপ্তরটি রোস্তোভ-ওন-ডোন বিভাগে অবস্থিত।
এক ভিডিও বার্তায় প্রিগোজিন বলেন, যতক্ষণ না রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু এবং জেনারেল ভেলেরি গেরাসিমোভ তাদের সঙ্গে দেখা করতে না আসেন, ততক্ষণ তার সেনারা এই শহরটি অবরুদ্ধ করবে এবং রাজধানী মস্কোর দিকে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সোইগুর সঙ্গে দেখা করতে চাই। এ ছাড়া ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিপক্ষে যুদ্ধের পরিবর্তে উল্টো রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দেন তিনি। বলেন, রুশ নেতৃত্বকে তারা ক্ষমতাচ্যুত করে ছাড়বেন। এই পথে যারা বাধা দেবে তাদেরও ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন