কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন

বিয়ের আয়োজন। প্রতীকী ছবি
বিয়ের আয়োজন। প্রতীকী ছবি

কারাগারে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের পরিণতি হতে যাচ্ছে বিয়ে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে ঘটছে এমন ঘটনা। এমনকি সেই বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চাঞ্চল্যকর দুটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী ও এক পুরুষ আসামি বিয়ে করার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। রাজস্থান হাইকোর্ট তাদের ১৫ দিনের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করেছেন।

মুক্তি পাওয়া দুজন হলেন মডেল প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং তার বাগদত্তা হনুমান প্রসাদ। শুক্রবার রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেভ এলাকায় আজ তাদের বিয়ের কথা রয়েছে। তারা দুজনই বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।

প্রিয়া শেঠ ২০১৮ সালে ডেটিং অ্যাপে পরিচিত এক যুবককে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই জেলে হনুমান প্রসাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ২ মে প্রিয়া শেঠ টিন্ডারে পরিচিত দুষ্যন্ত শর্মাকে জয়পুরের বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার কথা ছিল। প্রিয়া শেঠের তৎকালীন প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরার ঋণ শোধ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। প্রিয়া শেঠ দুষ্যন্তের বাবার কাছে ১০ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করেন। তার বাবা তিন লাখ রুপি জোগাড় করে পাঠান। তবে দুষ্যন্তকে ছেড়ে দিলে পুলিশে খবর দিতে পারে এই আশঙ্কায় প্রিয়া শেঠ, দীক্ষান্ত কামরা ও তাদের সহযোগী লক্ষ্য ওয়ালিয়া তাকে হত্যা করে।

পরে মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরিচয় গোপন করতে মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং আলামত নষ্ট করতে ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয়। ৩ মে রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদ তার প্রেমিকার স্বামী ও চার শিশুকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। তার প্রেমিকা সন্তোষ বয়সে তার চেয়ে প্রায় ১০ বছরের বড় ছিলেন এবং আলওয়ারে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে সন্তোষ হনুমান প্রসাদকে তার বাড়িতে ডেকে পাঠান। সেখানে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে সন্তোষের স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় সন্তোষের তিন সন্তান ও এক ভাগনে জেগে ওঠে এবং ঘটনা দেখে ফেলে।

ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষ শিশুদেরও হত্যার নির্দেশ দেন। হনুমান প্রসাদ সেই নির্দেশ অনুযায়ী চার শিশুকেও হত্যা করেন। ওই ঘটনায় এক রাতে পাঁচজন নিহত হন। এটি আলওয়ারের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

এনডিটিভি জানিয়েছে, দুই আসামির আবেদনের পর রাজস্থান হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় তাদের ১৫ দিনের প্যারোলে জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে তাদের আবার কারাগারে ফিরে যেতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় খাদে মাইক্রোবাস 

ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরানো সম্ভব : আইআরজিসি কমান্ডার

বরিশালে ইয়াবা-গাঁজাসহ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ

বিকেএম মহাসচিব / বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনের ওপর নতুন আঘাত

কালবেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রতিনিধিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা

রাজউকে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন যেভাবে

জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার

১০

মাজারের দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকাসহ স্বর্ণালংকার

১১

অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি দেবে নাবিল গ্রুপ, বেতন ৩৫ হাজার

১২

যুদ্ধক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব পাস হওয়ায় ট্রাম্পের ক্ষোভ

১৩

সরকারি মালামাল বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ কর্মকর্তার!

১৪

২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

১৫

শাকিবের লুকে মিমের মুগ্ধতা

১৬

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিতে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রয়োজন : দুলু

১৭

শ্রীলঙ্কার বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন নিহত

১৮

কত দিন পরপর ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, জানাল গবেষণা

১৯

পেস বোলিং কোচের পর ফিল্ডিং কোচও হারাচ্ছে বাংলাদেশ

২০
X