

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড় হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের কারণে সপ্তাহের শেষে ৮ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক তুষারপাতের পাশাপাশি টেক্সাসের পূর্বাঞ্চল থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ভয়াবহ বরফঝড়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার অন্তত ৩ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়। রোববারের জন্য বাতিল করা হয়েছে ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরফে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য হতে পারে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার থেকেই টেক্সাস, ওকলাহোমা ও কানসাসের বিভিন্ন এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই ঝড়টি তীব্র আর্কটিক ঠান্ডার সঙ্গে মিলিত হয়ে পুরো সপ্তাহান্তজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশকে গ্রাস করবে।
মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ জ্যাকব আশারম্যান রয়টার্সকে বলেন, এটি একটি অত্যন্ত ভয়ংকর ঝড়। তীব্রতা ও বিস্তৃতির দিক থেকে এটি চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বড় ঝড়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে ডাকোটা ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। আশারম্যান সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঠান্ডায় যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া বাইরে থাকলে খুব দ্রুত হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও টেনেসির কিছু অংশে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। এসব এলাকায় প্রায় এক ইঞ্চি পর্যন্ত পুরু বরফ গাছের ডাল, বিদ্যুৎ লাইন ও সড়কের ওপর জমতে পারে।
এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অথবা জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, রাজ্যের পরিবহন বিভাগ আগেভাগেই সড়কে রাসায়নিক প্রয়োগ করছে এবং বাসিন্দাদের ‘সম্ভব হলে ঘরে থাকার’ অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরফে ঢাকা গাছ ও বিদ্যুৎ লাইনের কারণে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ঝড় থেমে যাওয়ার পরও গাছ ও লাইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রশাসন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন