

গাজা উপত্যকার যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী ‘মাস্টারপ্ল্যান’ উন্মোচন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মঞ্চে তিনি বলেন, আমাদের একটি মাস্টারপ্ল্যান আছে… এর কোনো বিকল্প নেই (Plan B নেই)।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কুশনার জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে দায় থাকবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাসের ওপর। হামাস যদি নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হয়, সেটিই গাজার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবরে হওয়া ২০ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে গঠিত ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিসের’ সনদ স্বাক্ষরের পরপরই এ প্রস্তাবনা সামনে এসেছে।
প্রস্তাবনায় রাখা মানচিত্র অনুযায়ী, গাজার সমুদ্র উপকূলজুড়ে একটি বিশাল ‘কোস্টাল ট্যুরিজম জোন’ গড়ে তোলা হবে। সেখানে প্রায় ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ভবনের বড় অংশ হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমে মিসর সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাছাকাছি অভ্যন্তরীণ এলাকায় একটি বিমানবন্দরের জন্যও জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া গাজার পুরোনো বিমানবন্দরটির অবস্থান এই এলাকার কাছেই।
কুশনার দুটি নতুন নগর প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো ‘নিউ রাফাহ’ এবং ‘নিউ গাজা’। এর মধ্যে ‘নিউ রাফাহ’ শহরে এক লাখের বেশি স্থায়ী আবাসন ইউনিট, ২০০টিরও বেশি স্কুল এবং অন্তত ৭৫টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই এই নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ‘নিউ গাজা’কে শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এলাকাটির লক্ষ্য থাকবে শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। প্রদর্শিত কম্পিউটার-নির্মিত ছবিতে শহরটির অবকাঠামো কাতারের দোহা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের মতো আধুনিক নগরীর সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে হয়েছে।
কুশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সরকার অর্থায়নে এগিয়ে আসবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য একটি সম্মেলনে প্রথম দফার অর্থ সহায়তার ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখানে বিনিয়োগ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু গাজার মানুষের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করতে হবে। এখানে দারুণ বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন