ফ্রান্সে পুলিশের গুলিতে কিশোর নিহতের জেরে শুরু হওয়া দাঙ্গা পরিস্থিতি কিছুটা কমে এসেছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে দেশটিতে দাঙ্গা-বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরই মধ্যে শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।
গতকাল সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একজন পুলিশ অফিসার উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার পর ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত রোববার দাঙ্গার ষষ্ঠ রাতে ১৬০ জনেরও কম লোক গ্রেপ্তার হয়েছে। দেশটিতে পাঁচ রাত ব্যাপক সহিংসতার পর, তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ঘটনা ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় রোববার রাতে ১৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার আগের রাতে ৭০০ জনের বেশি এবং শুক্রবার বিক্ষোভের চতুর্থ রাতে ১৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৬ জুন প্যারিসের তল্লাশি চৌকিতে আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত নাহেল এম নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। পুলিশ দাবি করেছে, নির্দেশ না মেনে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই কিশোরকে গুলি করা হয়। নাহেলের মৃত্যু দেশটিতে বর্ণবাদ এবং সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি পুলিশের বৈষম্যমূলক আচরণের ব্যাপারে ক্ষোভ উসকে দেয়।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো ফ্রান্স। লাগাতার বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে দেশটি। দাঙ্গাকারীরা রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বহু গাড়িতে আগুন দেয়। দোকানপাট লুটপাট করার পাশাপাশি তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। নগরীর টাউন হল ও পুলিশ স্টেশনগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তারা প্যারিসের শহরতলির এক মেয়রের বাড়িতে হামলা চালায় ও আগুন দেয়। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তানরা ঘুমিয়ে ছিলেন।
এদিকে নিহত নাহেলের দাদি রোববার সকালে দেশে দাঙ্গা-সহিংসতা বন্ধ করে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিএফএম টিভিকে বলেন, আমরা চাই না আন্দোলনকারীরা দোকান, বাস ও স্কুল ধ্বংস করুক। যারা এই মুহূর্তে আইন ভাঙছেন, ভাঙচুর চালাচ্ছেন, আমি তাদের বলছি—এটা বন্ধ করুন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ৪৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন করে। সহিংসতার ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত এবং প্রায় ৩৫০টি ভবন ও ৩০০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে সহিংসতা এবং লুটপাটের ঘটনার বিরুদ্ধে টাউন হলের বাইরে র্যালিতে অংশ নিতে লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শহরের মেয়র। বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন শহরের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ২২০টি শহরের মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
মন্তব্য করুন