

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আসন সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি দিনদিন স্পষ্ট হচ্ছে। ৩০০ সংসদীয় আসনে এই জোটভুক্ত দলগুলো থেকে ৬০০-এর বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় দলগুলোর মধ্যে দরকষাকষির সমীকরণ আরও জটিল আকার নিয়েছে। প্রতিটি দলই নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে, ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। এমন টানাপোড়েনের মধ্যেই জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা সংকট ঘিরে নানান জল্পনা ও আলোচনা ছড়িয়েছে। কেউ কেউ এতে ‘তৃতীয় শক্তি’র ইন্ধন জোগানোর আশঙ্কাও করছেন। ফলে ঐক্যের বার্তা থাকলেও বাস্তবে ১১ দলীয় জোট এখনো বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচলে দাঁড়িয়ে আছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভোটের মাঠে লড়তে ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ছিল আগে থেকেই। কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জোটে নতুন করে যুক্ত হয়।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। অন্য দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি আসনে, খেলাফত মজলিস ৬৮ আসনে, এবি পার্টি ৫৩ আসনে, এনসিপি ৪৪ আসনে এবং এলডিপি ২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
এই জোটভুক্ত কয়েকটি দলের দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দরকষাকষি করার জন্যই অতিরিক্ত প্রার্থী রেখে দিয়েছে দলগুলো। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত এই দরকষাকষি চলবে। দলগুলোর নেতারা বলছেন, আগেই সমঝোতা হয়ে গেলে জোটে থাকার পরও একই আসনে সব দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটত না। এতে সন্দেহ, অবিশ্বাস বা যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা থাকত না। মনোনয়ন ফরম কেনার আগেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়া উচিত ছিল।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ আলোচনা অনুযায়ী জামায়াত ১১০টি আসন ছাড়ার চিন্তা করছে শরিকদের জন্য। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৩, বিডিপি ২, জাগপা ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টির জন্য দুটি আসন। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত করা হয়নি। বিশেষ করে এই সমঝোতা নিয়ে বেশি অসন্তোষ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে। ইসির তপশিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। এরই মধ্যে চূড়ান্ত করতে হবে এই সমঝোতা।
জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু আসনে সব দলই প্রার্থী দিতে অনড় রয়েছে। এমনও আসন রয়েছে, যেখানে তিনটি থেকে চারটি দল তাদের প্রার্থী রাখতে চাচ্ছে। এ কারণেই চূড়ান্ত সমঝোতায় দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া এক দলের কেন্দ্রীয় নেতার আসনে অন্য দলের আসন চাওয়াকে কেন্দ্র করেও সংকট দেখা দিয়েছে। একইভাবে দলগুলোর নিজেদের ভোট ব্যাংকের তুলনায় বেশি আসন দাবি করা নিয়েও সংকট ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে জোট থেকে কেউ বের হয়ে গেলেও যেতে পারে।
জোটের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা কালবেলাকে বলেন, ‘মূলত ইসলামী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আসন সমঝোতা আটকে আছে। সমঝোতা নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বেশি। এ ছাড়া কয়েকটি দল আসন কিছু বেশি চায়। তাই এখন পর্যন্ত কোনো দলের আসনই চূড়ান্ত হয়নি। সবার সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে। ১৯ তারিখের মধ্যে তা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’ জোট যাতে ভেঙে যায়, শক্তি কমে যায়—সেজন্য জোটের বাইরে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ধারণার চেয়ে বেশি আসনে অনেক দল প্রার্থী দিতে চাইছে। ৩০০ আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। শেষ পর্যন্ত সম্ভব না হলে কোনো কোনো আসন উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।’
ইসলামী আন্দোলনে অসন্তোষ: ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, ‘একক ব্যালট বাক্স’ নীতির কথা প্রথম আলোচনায় আনে ইসলামী আন্দোলন। সে অনুযায়ী কওমি ঘরানার দলগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। এনসিপি, এবি পার্টিকেও এই আলোচনায় যুক্ত করার চেষ্টা করেন চরমোনাই পীর। এরপর জামায়াত এই আলোচনায় যুক্ত হয়; কিন্তু এখন আসনসংখ্যা নিয়ে এক ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত আসন ছাড়ছে, সে কথাতেও আপত্তি রয়েছে তাদের।
জোট সূত্রে জানা যায়, আসন সমঝোতায় শুরুতে ১২০-১৫০ আসনের কথা জানায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পরবর্তী দল বাড়ায় সেটি নামে ১০০-১২০টিতে। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শেষে সর্বশেষ অন্তত ৭০ আসন চায় দলটি। তবে এতে এখনো সম্মতি জানায়নি জামায়াত। তারা ৩০-৪০ আসনের আলোচনায় ছিল। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে দলটির মধ্যে। ইসলামী আন্দোলন সারা দেশে তাদের জন্য ১৪৩টি আসনকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে। অর্থাৎ ১৪৩টি আসনে নিজেদের অবস্থান ভালো দেখছে দলটি। জামায়াতের পক্ষ থেকে কম আসন প্রস্তাব করায় দলটির নেতারা অসন্তুষ্ট।
নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থানসংক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে গত মঙ্গলবার ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। পরে ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটি সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে। আসনসংখ্যা নিয়ে যেহেতু অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, এক ধরনের চাপ ধরে রাখতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল বলে দল সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বলেন, ‘ঐক্য ভেঙে যাক সেটি আমরা চাই না। তবে আসন সমঝোতা হতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে।’
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘আসন সমঝোতার বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ আছে। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান আছে। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। এরপর পরবর্তী অবস্থান জানা যাবে। স্থগিত থাকা আমাদের সংবাদ সম্মেলন কখন হবে তা আমরা জানিয়ে দেব।’
এনসিপির ৮ জনের চূড়ান্ত, বাকিরা অন্ধকারে: নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয় এনসিপি। এই সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দলের বেশ কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন, কেউবা নির্বাচন না করা ও নিষ্ক্রিয় থাকার ঘোষণা দেন। দলটির সঙ্গে ৩০ আসনে সমঝোতা হয়েছে বলে জোট সূত্রে জানা গেছে। তবে এনসিপি ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। কারা কারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে ৩০ জনের তালিকায় কারা থাকছেন, তা জানেন না দলের নেতারাও।
৩০টি আসনে সমঝোতার কথা বলা হলেও এনসিপির নেতাদের আসনে জোটের প্রার্থী নেই এমন আসন হাতেগোনা। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আসন নিশ্চিত হলেও বাকিরা কে পাবেন, তা জানেন না কেউই। এ নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেক নেতা অভিযোগও জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একদিকে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে শীর্ষ নেতা ছাড়া বাকিরা অন্ধকারে আছেন। এতে নির্বাচনীর প্রস্তুতি ও দলের শৃঙ্খলায় সংকট দেখা দিতে পারে।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে নির্বাচন করছেন তা অনেকটা নিশ্চিত। তাদের প্রায় সবার আসনে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।
এনসিপির পক্ষ থেকে ৪৪ জনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও তা এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভুলত্রুটি ও সম্ভাব্য জটিলতা বিবেচনায় রেখে বাড়তি কিছু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনসিপির মোট প্রার্থীর সংখ্যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।
এবি পার্টির পক্ষ থেকে ৫৩টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু কালবেলাকে বলেন, ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে আমাদের তিনটি আসনের কথা জানানো হয়েছে। বাকি আসনগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা চলমান রেখেছি। আলাপ-আলোচনার পর কতটি আসনে সমঝোতা হবে, তা চূড়ান্ত হবে। চূড়ান্ত হওয়ার পর আমরা জানাব জোটে থাকব কি থাকব না।’
জোটের আসন সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কালবেলাকে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট আমরা দেখছি না। জোট ভাঙার বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। শঙ্কার চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি। কিছু সংকট থাকলে সেটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব।’
এর আগে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট নেই। কেউ জোট ভাঙতে চায় না। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান আসবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় জোট গঠনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের আসনকেন্দ্রিক বিরোধ স্বাভাবিক। তবে অস্বস্তি দ্রুত নিরসন না হলে ভোটের মাঠে তার প্রভাব পড়তে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচনী জোট মানেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের খেলা বলে। এটা স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। এটি একটি বার্গেনিং গেইম। দেখা যাচ্ছে কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত কিন্তু ইলেভেনথ আওয়ারে (শেষ সময়) এসে বলছে না আমরা এই সমঝোতায় যাচ্ছি না। এটি হতেই পারে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত এটি চলতে থাকবে। এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনী জোটের ধারণা আমাদের দেশে নতুন নয়। অতীতেও তা হয়ে আসছে। এখানে আদর্শের জায়গাগুলো গৌণ। মূলত নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার কৌশল হিসেবে জোট করা হয়। বিশেষ করে ছোট দলগুলো সেই সুবিধা নেয়। আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট হতো এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা দুই দল আলাদা দল গঠন করছে।’
মন্তব্য করুন