

জাতীয় দলে আপাতত জায়গা নেই, ঘরোয়া নারী ফুটবল লিগও খেলতে পারছেন না—তবু হার মানতে রাজি নন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের তারকা সাবিনা খাতুন। দীর্ঘ ১৪ মাস ম্যাচের বাইরে থাকলেও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনই নিতে চান না তিনি। সাবিনার স্পষ্ট বক্তব্য, অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন, অন্য কেউ নয়।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও দ্বিগুণ সাফজয়ী এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে ফুটসাল দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রথম সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনিই।
গত বছরের শুরুতে কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে সাবিনা, সুমাইয়া, কৃষ্ণাদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর তারা ভুটানে লিগ খেললেও দেশে ফিরে সুযোগ পাননি ফুটবলে। তবে ফুটসাল দলে ফিরেছেন সাবিনা—সেই দায়িত্বেই এখন তিনি অধিনায়ক, সহ–অধিনায়ক সুমাইয়া।
ফুটবল ক্যারিয়ার কি তবে শেষের পথে—এমন প্রশ্নে ৩২ বছর বয়সী সাবিনা দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “আমি কখন ফুটবল বা ফুটসাল ছাড়ব, সেটা আমিই ঠিক করব। খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার খেলোয়াড়েরই থাকা উচিত।”
ফুটসালের সঙ্গে তার সম্পর্ক নতুন নয়। দেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশে ফুটসাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। জাতীয় দলের জার্সিতে সাত বছর পর আবার ফুটসালে ফেরার সুযোগ পেয়ে তাই দারুণ উচ্ছ্বসিত সাবিনা। দেশের প্রয়োজনে নতুন প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে পারলেই সেটাই হবে তার বড় সাফল্য—এমনটাও জানালেন তিনি।
আসন্ন সাফ ফুটসাল টুর্নামেন্ট নিয়ে তিনি বাস্তববাদী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। মালদ্বীপকে ফেবারিট ও ভারতকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে করলেও প্রস্তুতির সময় কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও ভালো করবে বলে আশাবাদী সাবিনা।
বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী ফুটসাল দলের ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি ফুটসাল অবকাঠামোর ঘাটতি নিয়ে আক্ষেপ জানিয়ে বলেন, দেশে বিশেষায়িত ফুটসাল স্টেডিয়ামের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে সহ–অধিনায়ক সুমাইয়াও দেশের ফুটসাল উন্নয়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ব্যাংককে মেয়েদের সাফ ফুটসাল টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১৩ জানুয়ারি, পরের দিন মাঠে নামবে পুরুষ দল। সবকিছুর মাঝেই সাবিনার বার্তাটি স্পষ্ট—তিনি এখনও লড়াইয়ে আছেন, নিজের অধ্যায়ের শেষ পাতা নিজেই লিখতে চান।
মন্তব্য করুন