কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি জামায়াত এনসিপির অনেকের প্রার্থিতা বাতিল

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা শেষ হবে আজ রোববার। এরপর আপিল দায়ের, নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত ছিল। এদিন বিভিন্ন আসনে যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিতের খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বাছাইয়ে টিকতে পারেননি। ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল হকের মনোনয়ন ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হয়েছে। ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন বলেন, মোট ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। সেটা ঠিকই ছিল। বরং কিছু বেশি ভোটারের স্বাক্ষর ছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে আটজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি দুজন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচনবিধি অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তার আপিলের সুযোগ আছে।

হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করায় ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল ও মামলার তথ্য গোপন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাতের মনোনয়ন বাতিল হয়।

জামালপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুজিবুর রহমান আজাদী মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাতিলের কারণ হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভর মনোনয়ন বাতিল হয়।

আয়কর বিষয়ে সমস্যা থাকায় বরিশাল-১ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম খানের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব (অস্ট্রেলিয়া) বাতিলের আবেদনের কপি জমা দিলেও আবেদন গৃহীত হওয়ার প্রমাণপত্র না থাকায় শেরপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

হলফনামায় প্রার্থীর স্বাক্ষর না থাকায় চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবদুল মোবিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে আমি বিচলিত নই। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব।

যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না করায় সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এহতেশামুল হকের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াসের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি থাকায় সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিকের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য সিলেট-৪ আসনে এসসিপির প্রার্থী রাশেল উল আলম মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। সিলেট-৬ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্রের সমস্যার কারণে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর মিল না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে মনোনয়নপত্রে বিএনপি মনোনীত কথা উল্লেখ করলেও দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় সাইফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ময়মনসিংহ-৫ আসনে দলের মনোনয়নপত্রে দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরে মিল না থাকা ও আয়কর রিটার্নে আয়-ব্যয়ের তথ্য না থাকায় এবি পার্টির প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

শেরপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মাহমুদুল হক মনি ও খেলাফত মজলিসের শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ রেজাউল করিমের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে খালাস পাওয়া সংক্রান্ত রায়ের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন না হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শহিদুল আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম-১ আসনে যথাযথ দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির এরশাদ উল্লাহর মনোনয়ন বাতিল হয়।

চট্টগ্রাম-৩ আসনে জাতীয় পার্টির এম এ ছালামের দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় বাতিল হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার আবেদন নাকচ করা হয়।

চট্টগ্রাম-৭ আসনে সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকাসহ চার কারণে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আব্দুর রহমান, দলের মনোনয়ন ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা জমা না দেওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১২ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে এলডিপির এম ইয়াকুব আলী, দলীয় মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বাগেরহাটে ঋণখেলাপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটের শতকরা হিসাবে গরমিলসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৩২ প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শামীম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম সরোয়ার, বাগেরহাট-২ আসনে এলডিপির প্রার্থী হাসান ইমামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ সেলিমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বরিশাল-২ আসনে আয়কর বিষয়ে সমস্যা থাকায় বিএনপি মনোনীত সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান, ১১ হাজার ৭০০ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় তৃণমূল বিএনপির মো. সাহেব আলী, দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা না থাকার জাতীয় পার্টির এম এ জলিল এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী আব্দুল হকের মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনে দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা এবং ৩০০ টাকা স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকায় জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস ও ফখরুল আহসান এবং অঙ্গীকারনামা না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া একই আসনে কারাগার থেকে মনোনয়ন দাখিল করা জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুর মনোনয়নপত্র দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং প্রার্থী কারাগারে থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।

বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রটির কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নড়াইল-১ আসনে জাতীয় পার্টির মিল্টন মোল্যার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আজিজের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। নড়াইল-২ আসনে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মাহমুদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী তিন প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, আমিরুল ইসলাম ও রোমানা আহমেদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। মাগুরা-১ আসনে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আলোচিত এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

৩ কোটি ৩৫ লাখ ২৮ হাজার ২৪১ টাকার আয়কর পরিশোধ না করায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। গাইবান্ধা-৫ আসনে দলীয় কাগজ ত্রুটি ও ঋণখেলাপির কারণে গণঅধিকার পরিষদের সামিউল ইসলাম এবং কাগজে স্বাক্ষর না থাকায় সিপিবির শ্রী নিরমলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

গোপালগঞ্জে তিনটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং দুজনের স্থগিত করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করায় ঝালকাঠি-১ আসনের লেবার পার্টির প্রাথী মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আয়কর বকেয়া থাকায় এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলমেতের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া প্রস্তাবকারী ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী, মাহফুজুর রহমান খান ও হুসাইন আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির মোশাহীদ আলী তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জয়পুরহাট-১ আসনে এবি পার্টির সুলতান মো. শামসুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জয়পুরহাট-২ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী এস এ জাহিদ, বিএনপির নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম ও আব্বাস আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে মামলার তথ্য গোপন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ১ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ছয়জনের তথ্য সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রাজশাহীর ছয়টি আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন রাজশাহী-১ আসনের বিএনপি নেতা সুলতানুল ইসলাম তারেক (বিএনপির বিদ্রোহী), রাজশাহী-২ আসনের সালেহ আহমেদ, রাজশাহী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা শাহাবুদ্দিন, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী মোহনপুর উপজেলা কৃষক লীগের নেত্রী হাবিবা বেগম, রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী লন্ডন প্রবাসী জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিম, আইনজীবী রায়হান কাওসার, বিএনপি নেতা ইসফা খায়রুল হক শিমুল এবং বিএনপি নেতা জুলফার নাঈম মোস্তফা। তাদের বেশিরভাগই সমর্থক হিসেবে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সঠিকভাবে দিতে পারেননি। এ ছাড়া কেউ ঋণখেলাপি আবার কেউ যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। গাজীপুর-১ আসনে কাগজপত্র ঠিক না থাকায় জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

গাজীপুর-২ আসনে নির্ধারিত হলফনামায় তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ না করায় গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। যথাযথ হলফনামা দাখিল না করায় জাতীয় পার্টির ইসরাফিল মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রেজাউল করিমের মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-৩ এ জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। চাঁদপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুরের ছয়টি আসনে ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী, রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান ও বাসদের আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু। এ ছাড়া রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) আব্দুস ছালাম, রংপুর-৫ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাছেত এবং রংপুর-৬ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. কামরুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে উদ্বেগ ৬ দেশের

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

আলোচনায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোপুত্র গুয়েরা

হাতাহাতি ও লাল কার্ডের ম্যাচে তহুরাদের ২৩ গোল

নিজের সাফল্য দেখে যেতে পারল না শিশু আয়েশা

এবার আর্থিক সহযোগিতা চাইলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ঘুরতে গিয়ে প্রেমিকাসহ স্ত্রীর হাতে ধরা স্বামী, অতঃপর...

ঘনকুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় প্রেসক্লাব নেতাদের সাক্ষাৎ

১০

জাবিতে ২০ বোতল মদসহ শিক্ষার্থী আটক

১১

তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক

১২

১২ জানুয়ারি ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১৩

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ৯০ শতাংশই অকৃতকার্য

১৪

ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ফল প্রকাশ

১৫

সবচেয়ে বেশি ও কম ভোটার কোন কোন আসনে

১৬

ভেনেজুয়েলা পরিচালনা নিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের আলাপ

১৭

আশুলিয়ায় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া

১৮

স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

১৯

ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা এখনই নয় : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০
X