

নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের চীন সফরের শুরুতেই সাগরের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে দেশটি। নতুন বছরের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
রোববার (০৪ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করে। এগুলো প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এই উৎক্ষেপণগুলো যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মিত্র দেশ কিংবা মার্কিন সেনাদের জন্য ‘তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি’ তৈরি করেনি।
জাপানও জানিয়েছে, অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র যথাক্রমে ৯০০ ও ৯৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আমাদের দেশ এবং আন্তর্জাতিক সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এর আগে সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দেশটির নেতা কিম জং উন একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনের সময় কৌশলগত নির্দেশিত অস্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি একাধিক অস্ত্র কারখানা ও একটি পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন পরিদর্শন করেছেন।
সিউলের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল রয়টার্সকে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মূলত চীনের উদ্দেশে একটি বার্তা—যাতে বেইজিং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না বাড়ায় এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে চীনের অবস্থানের বিরোধিতা করা হয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া নিজেদের শক্ত অবস্থান দেখাতেই এই বার্তা দিয়েছে।
এদিকে, রোববার সকালে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। তার সঙ্গে ২০০ জনের বেশি দক্ষিণ কোরীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি রয়েছেন।
এই সফরে সরবরাহ ব্যবস্থা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসবেন।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, বেইজিং সফরে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে। সফরের আগে সিসিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লি জে-মিয়ং তাইওয়ান প্রসঙ্গে ‘এক-চীন নীতি’ মেনে চলার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং চীন-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন