

সারা দেশে একটি দলের প্রতি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক শেষে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে কালো রঙের একটি গাড়িতে চড়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যমুনায় প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর কিছুক্ষণ আগে আরেকটি গাড়িতে করে যমুনায় প্রবেশ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
বৈঠক শেষে রাত ৮টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যারা একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
একটি দলের প্রধানের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার বাড়াবাড়ি করছে অভিযোগ করে ডা. তাহের বলেন, গত দু-তিন সপ্তাহ ধরে একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সরকারের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার প্রবণতা নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। কারও নিরাপত্তা বা প্রটোকলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রতিও একই ধরনের আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এটি পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতি একে পক্ষপাতমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে তারা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান। তবে তার আশপাশে থাকা কিছু উপদেষ্টা তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. তাহের। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ডা. তাহের বলেন, যদি সত্যিই প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়, তাহলে এটিকে একটি উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা দেখব। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টাকে আগাম ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
এদিকে, শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা থেকে সরে যাওয়া ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না জামায়াত জোট। এ বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সমঝোতায় ইসলামী আন্দোলনের অনেক ভূমিকা ছিল, আমরা সেই ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। টুকটাক টেকনিক্যাল কিছু বিষয়ের জন্য তারা নিজেরা আলাদা নির্বাচনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা নির্বাচনে তাদের সাফল্য কামনা করি। আর ইসলামী আন্দোলনের সম্মানে দলের সিনিয়র নায়েবে আমিরের আসনে আমরা কোনো প্রার্থী দেব না। কারণ, উনাদের আমির পীর সাহেব নির্বাচন করছেন না। তাই সৌজন্যের জন্য আমরা এই আসনে প্রার্থী দেব না।
মন্তব্য করুন