

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘থানা থেকে লুট হওয়া কিছু অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেগুলো হয়তো খাল-বিল-নদীতে ফেলে দিয়েছে। এজন্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশের লুট হওয়া এ অস্ত্র নির্বাচনকালে ব্যবহার করতে পারবে না-এ প্রতিশ্রুতি দিতে পারি।’ গতকাল রোববার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘দৈনিক কিছু না কিছু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যে অস্ত্র আসছে, সেগুলোও উদ্ধার হচ্ছে। তবে আপনারা যে পরিমাণ আশা করেন, হয়তো সে পরিমাণ হচ্ছে না।’
এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি আত্মবিশ্বাসী ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’ পেশাদার, যুগোপযোগী, আধুনিক ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা কর্মজীবনে প্রতিফলিত করতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান উপদেষ্টা। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দ্বায়িত্ব পালনে পুলিশ প্রস্তুত।’
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। এমনকি দায়িত্ব পালনে তাদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবারও গ্রহণ করবেন না। কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম বিপিএম, সিনিয়র সচিব (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) নাসিমুল গণি, পুলিশ একাডেমি সারদার অ্যাডিশনাল আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরি বিপিএমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।
কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন