রাজকুমার নন্দী
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির মিত্ররা ‘বিদ্রোহী’ চাপে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
বিএনপির মিত্ররা ‘বিদ্রোহী’ চাপে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৬টি আসন ছেড়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ১২টিতেই বিএনপির নেতারা ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকা এ স্বতন্ত্রদের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে বিএনপি। ‘বহিষ্কৃত’ এসব নেতা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তৃণমূলের ওপর ভরসা করে প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আর বহিষ্কার, কমিটি স্থগিত-বিলুপ্তির মতো দলীয় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার পরও বিএনপির তৃণমূল নেতাদের একাংশ, কোথাও কোথাও বড় অংশ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে প্রচারণায় বিএনপির তৃণমূলকে এখনো পুরোপুরি পাশে পাচ্ছেন না মিত্ররা। এতে করে নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের ‘প্রবল চাপের মুখে’ রয়েছেন তারা। বিদ্রোহী এসব প্রার্থী এখন মিত্রদের জন্য কার্যত ‘গলার কাঁটা’য় পরিণত হয়েছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে বোঝানোসহ নানামুখী উদ্যোগ এবং সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে বহিষ্কারের পরও ৭০টির মতো আসনে বিএনপির ‘অভিমানী’ নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনে দলের এসব ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় বিএনপির তৃণমূল এখন কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রের কড়া নির্দেশনায় তৃণমূলে বিএনপির পদধারী নেতারা জোট প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করলেও সাবেক নেতা এবং সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষেই রয়েছেন। আবার দলীয় বহিষ্কারের ভয়ে পদধারী কেউ কেউও নীরবে তাদের সমর্থন দিচ্ছেন। অবশ্য তপশিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ায় নির্বাচনে থাকা এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকে ‘নিষ্ক্রিয় করতে’ দলের পক্ষ থেকে তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অনেকের শঙ্কা, তৃণমূলে শেষ পর্যন্ত এই বিভক্তি অব্যাহত থাকলে সেটি মিত্রদের জয়ের ক্ষেত্রে বড় ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মূলত দলের উপজেলা পর্যায়ের নেতা। আন্দোলন-সংগ্রামসহ দীর্ঘ সময় ধরে তারা কর্মী-সমর্থকদের পাশে রয়েছেন এবং তৃণমূলের কমিটিগুলোও তাদের মনোনীত লোকজন দিয়ে গঠিত। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপর তাদের একটা প্রভাব রয়েছে। তাই নির্বাচনে তারা দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছেন।

এদিকে বিএনপির তৃণমূল নেতাদের বহিষ্কারের পর ভোটের মাঠের দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। নেতাকর্মীরা শুরুতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ নিলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থার পর ধীরে ধীরে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীর পক্ষে ঝুঁকছেন। তাছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় সমর্থন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তৃণমূল সফরের মধ্য দিয়েও ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের পক্ষে জোয়ার তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা সফরে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের একসঙ্গে মঞ্চে নিয়ে সমাবেশ করছেন। একই সঙ্গে জনতার সামনে ধানের শীষ ও জোটপ্রার্থী হিসেবে তাদের নিজেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট আসনে দলের বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ‘প্রান্তিক’ তথা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছেন। অনেকের অভিমত, এটা বহিষ্কারের চেয়েও বড় ফল বয়ে আনছে। তাদের দাবি, এর মধ্য দিয়ে বিএনপির তৃণমূল বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে ক্রমেই শরিকদের দিকে ঝুঁকছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা ঢাকা-১২ আসনটি গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পান ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে রয়েছেন; বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগও করছেন। এ আসনে সাইফুল হকের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নীরব। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপির সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এই আসনে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতা সাইদুজ্জামান কামাল বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এ জন্য দল এরই মধ্যে তাকে বহিষ্কার করেছে। তবে কামালের পক্ষে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কাজ করছেন, আবার কেউ কেউ দলীয় বহিষ্কারের ভয়ে নীরবে সমর্থন দিচ্ছেন। তাই সাইদুজ্জামান কামালের প্রার্থিতা সাকির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি। এ আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়ে বিএনপি প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় হাসান মামুনকে বহিষ্কার করা হলেও তৃণমূলের বড় একটি অংশ তার সঙ্গে রয়েছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্য, দল যেই সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তারা হাসান মামুনের পাশেই থাকবেন। এ অবস্থায় নুরের পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ না করায় বিএনপির কেন্দ্রীয় থেকে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এতেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। এরপর বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীনসহ জেলা শাখার পক্ষ থেকে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। ফলে এই আসনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলায় কার্যত আস্থা-বিশ্বাসের জায়গা থেকে জোট করেছি। সেই জায়গা থেকে নির্বাচনে যাই হোক, তারেক রহমানের সঙ্গে ভবিষ্যতে আমাদের পথ চলা থাকবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, ‘এ জনপদের মানুষের পাশে দীর্ঘ ২০ বছর আন্দোলন-সংগ্রামসহ সবসময় রয়েছি। তাদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমি বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।’

জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। দুজনকেই ইতোমধ্যে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে বিএনপির পদধারী সাবেক নেতা ও সাধারণ কর্মী এবং সাধারণ মানুষের সমর্থনে রুমিন ফারহানার পক্ষে এরই মধ্যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে।

অবশ্য, জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সবার সহযোগিতা আমি শুরু থেকেই পাচ্ছি। বিএনপির প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন আমার এই নিবার্চনী প্রচার-প্রচারণায় প্রতিটি এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। সাধারণ মানুষের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি, প্রশাসনের ভূমিকা এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সব ঠিক থাকলে জয়ের ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ আমি শতভাগ আশাবাদী।’

নড়াইল-২ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ পান জোট শরিক অনিবন্ধিত এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এর আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছিল দল। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এ জন্য তাকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এ আসনে বিএনপির তৃণমূল ইতোমধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এখনো তৃণমূল বিএনপির পুরো সমর্থন-সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অবশ্য কেন্দ্রের কড়া নির্দেশনার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মনিরুলের পক্ষ ত্যাগ করে নেতাকর্মীরা ধানের শীষের দিকে ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন সৈয়দ এহসানুল হুদা। চূড়ান্তভাবে তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে। এখানে প্রাথমিক মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলার সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়ন পান। তবে চূড়ান্তভাবে ১২ দলীয় জোট শরিক জমিয়তের (অনিবন্ধিত দল) যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাছকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। পরে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ইকবালকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ইকবাল নির্বাচনে থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে ধানের শীষ পান এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমদ। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাওনের পক্ষে তৃণমূল বিএনপির একটি অংশ থাকলেও পূর্ব অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক বৈধতা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তায় রেদোয়ান আহমদ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

রেদোয়ান আহমদ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কোনো লড়াইয়ে নেই। মুক্তিযুদ্ধ করেছি, চারবার এই এলাকার মানুষের ভোটে সংসদে গিয়েছি। এখনো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছেই আছি। মানুষ অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের রাজনীতি বোঝে। তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি কেটেছে। শেষ পর্যন্ত চান্দিনার মানুষ ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বিএনপিতে যোগ দিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ পান বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনটি জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দিকে ছেড়েছে বিএনপি। এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে ঢাকা-১৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এই তিন আসনে বিএনপির কোনো নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়াননি।

বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে ভোলা-১ (সদর) আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপি থেকে গোলাম নবী আলমগীরকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনও বিএনপি মিত্র দল জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমীকে ছেড়ে দিয়েছে। এখানে বিএনপির দুজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রার্থী হওয়ায় এ দুজনকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। অবশ্য স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিএনপি ও এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকাশ্য সমর্থন, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক বার্তার কারণে এই আসনে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকের প্রার্থীকে শক্ত অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনটি জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদকে এরই মধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনে বিএনপি ও জোট রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে চরম দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি। একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন জমিয়ত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশিদ। জোটপ্রার্থীর পক্ষে তৃণমূল কর্মীরা আর বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে পদধারী নেতারা। নেতাকর্মীদের বিপরীতমুখী অবস্থান ঘিরে বিএনপির তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক বিভ্রান্তি, যা নির্বাচনী সমীকরণকে করে তুলেছে অনিশ্চিত। বিএনপির এই দ্বন্দ্বে অসহায় হয়ে পড়েছেন জমিয়তের উবায়দুল্লাহ ফারুক।

গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ জন্য ফিরোজকে এরই মধ্যে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পাশে থাকায় তাদের বড় অংশ ফিরোজের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে করে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে ধানের শীষ পান আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া। আর ধানের শীষ না পেয়ে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া এরই মধ্যে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। জানা গেছে, তৃণমূল বিএনপির পদধারী সাবেক নেতা এবং সাধারণ কর্মীরা সুজাত মিয়ার সঙ্গে রয়েছেন। এ ছাড়া পদধারী অনেক নেতাও গোপনে তার পক্ষে কাজ করছেন। অন্যদিকে পদধারী অবশিষ্ট নেতারা রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে থাকায় আসন্ন নির্বাচনে এ দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যারা পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩

নীরবতা ভাঙলেন পরেশ রাওয়াল 

ক্ষমতায় গেলে জামায়াত কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করবে, এটি জঘন্য মিথ্যাচার : শফিকুর রহমান

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ‘ইমার্জেন্সি অপশন’ হতে পারেন স্টিভ স্মিথ

জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন এলডিপি প্রার্থী

কিশোরীকে ধর্ষণ, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

বিশ্বকাপে না যাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য নতুন টুর্নামেন্ট

শেরপুরে পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জবির বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ

১০

যেসব কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম

১১

রাজধানীতে বাসে আগুন

১২

হাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

১৩

নিখোঁজের ৩ দিন পর ডোবায় মিলল ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ

১৪

কিয়েভে হামলা বন্ধে রাজি হয়েছেন পুতিন

১৫

দেশে স্বর্ণের দাম কমলো

১৬

দুপুরে অপহরণ, রাতেই উদ্ধার মুগদার সেই শিশু

১৭

পাকিস্তান সিরিজেই জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব!

১৮

৫০তম বিসিএস পরীক্ষা শুরু

১৯

আজ থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু, ভরি কত

২০
X