

বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আবারও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আলোচনায় স্টিভেন স্মিথ। যদিও তিনি অস্ট্রেলিয়ার মূল বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই, তবে প্রয়োজনে তাকেই প্রথম বিকল্প হিসেবে ডাকার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার রিকি পন্টিং।
অ্যাশেজ শেষে মাত্র ছয় ম্যাচ খেলেই বিবিএলে আলো ছড়ান স্মিথ। এই ছয় ম্যাচে তিনি ২৯৯ রান করেন ১৬৭ স্ট্রাইক রেটে, যার মধ্যে ছিল একটি সেঞ্চুরি। তার ব্যাটিংয়ে ভর করেই সিডনি সিক্সার্স ফাইনালে পৌঁছায়। যদিও ফাইনালে তারা পার্থ স্কর্চার্সের কাছে হেরে যায়, তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্মিথ ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যাটারদের একজন।
পরিসংখ্যানও স্মিথের পক্ষে কথা বলছে। টুর্নামেন্টে অন্তত ২৫০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটে কেবল ফিন অ্যালেন তার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। আর গড়ের বিচারে কেবল ডেভিড ওয়ার্নারের গড় ছিল স্মিথের (৫৯.৮০) চেয়ে বেশি।
এই ফর্মের কারণেই বিশ্বকাপে কোনো ইনজুরি সমস্যা দেখা দিলে স্মিথকে স্কোয়াডে যুক্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপমহাদেশের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মহলের অনেকে।
রিকি পন্টিং বলেন, বর্তমান ওপেনিং জুটি ট্রাভিস হেড ও মিচ মার্শ ভালো করায় একাদশে জায়গা পাওয়া স্মিথের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তার মতে, স্মিথই এখন ‘নেক্সট ক্যাব অফ দ্য র্যাঙ্ক’—অর্থাৎ প্রথম বিকল্প। পন্টিংয়ের ভাষায়, “একটু ইনজুরি হলেই সে প্রস্তুত। দরকার পড়লে সে সঙ্গে সঙ্গেই দলে ঢোকার জন্য তৈরি।”
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আর খেলেননি স্মিথ। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি বেশি শক্তিশালী ও পাওয়ার-হিটিং নির্ভর ব্যাটিংয়ের দিকে ঝুঁকেছে। হেড ও মার্শের ওপেনিং জুটি এবং উপরের দিকে টিম ডেভিডের ব্যবহার সেই কৌশলেরই অংশ।
তবে বিবিএলে নতুন রূপে দেখা গেছে স্মিথকে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপে কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়া দল স্মিথের দিকেই ফিরতে পারে—এমন সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
মন্তব্য করুন