

ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব ইতিহাসে এক আলোচিত নাম। তিনি সারা বছর বিশ্ব সংবাদের কেন্দ্রে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রেসিডেন্ট ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার একের পর এক কাণ্ড করে চলেছেন। কখনো যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করছেন, কখনো নিজেই যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন, কখনো শুল্ক-যুদ্ধ শুরু করছেন, আবার কখনো দেশে সেনা মোতায়েন করছেন।
২০ জানুয়ারি ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। দায়িত্ব নিয়েই রেকর্ড সংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। শপথের পরপরই তিনি মেক্সিকো সীমান্তে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে আবারও সরে দাঁড়ানোর আদেশে স্বাক্ষর করেন। ২১ জানুয়ারি ফেডারেল আদালতগুলোয় অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের অনুমতি দিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প।
বাণিজ্যযুদ্ধ: ১ ফেব্রুয়ারি অভিবাসন ও মাদক চোরাচালান বন্ধের কথা বলে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘ফেয়ার অ্যান্ড রেসিপ্রোকল’ বাণিজ্য পরিকল্পনা ঘোষণা দেন তিনি, এতেই মূলত চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বৈঠক: ২৮ ফেব্রুয়ারি ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়ান ট্রাম্প, যা তখন বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।
সংঘাতে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রকেও: ২০২৫ সালে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশদাতাও তিনি। এ ছাড়া তার অনুমোদনে ভেনেজুয়েলা, নাইজেরিয়াসহ কয়েক দেশে হামলা চালায় মার্কিন সেনারা।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: ৪ জুন তিনি একটি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, যাতে অন্তত ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ সীমিত করার ঘোষণা থাকে, তাদের ‘নিরাপত্তা হুমকি’ উল্লেখ করা হয়।
নিজ দেশে সেনা মোতায়েন: ১১ আগস্ট তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘ক্রাইম ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করে পুলিশকে ফেডারেল পর্যায়ে নিয়ে আসেন এবং ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন। দাবি করেন যে তিনি ‘উচ্চ অপরাধ’ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। এ উদ্যোগ ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে।
যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্প নিজ উদ্যোগে বেশ কয়েকটি সংঘাত সমাধানে মধ্যস্থতা করেছেন। তবে তিনি এসব বিষয় বারবার প্রকাশের মাধ্যমে নিজেকে ‘শান্তিদূত’ হিসেবে জাহির করেন। এ জন্য তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে তদবিরও করেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
ভেনেজুয়েলায় হামলার অনুমোদন: সেপ্টেম্বরে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে টানা হামলা চালায় তারা। গতকাল কারাকাসে সেই পূর্ণ হামলা চালায় ট্রাম্পের আমেরিকা।
মন্তব্য করুন