

যুদ্ধ, সহিংসতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার একটি ভয়াবহ অধ্যায় পার করেছে বিশ্ব। ২০২৫ সালে একদিকে চলমান যুদ্ধগুলো কেবলই দীর্ঘায়িত ও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, অন্যদিকে নতুন নতুন সংঘাত ভূগ্রহকে আরও হুমকিতে ফেলেছে। বিশ্ব সংস্থাগুলোর মতে—ওই বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১০টির বেশি যুদ্ধ ও সংঘাত সক্রিয় ছিল।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: উত্তপ্ত দক্ষিণ এশিয়া
গত বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হন। এ জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে। এর জেরে ওই মাসের ২৩ ও ২৪ তারিখ সীমান্তে গুলি চালায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা। ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিযান চালায় পাকিস্তানে। ওইদিন থেকে ১০ মে পর্যন্ত চার দিন দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। কাশ্মীর ইস্যু ও সামরিক অভিযানের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা বিশ্ববাসীকে শঙ্কিত করে তোলে।
যুদ্ধ-সংঘাতে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্য
২০২৫ সালে ইসরায়েল-গাজা (ফিলিস্তিন) সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান ও পাল্টা হামলায় হাজারো বেসামরিক মানুষ মানবিক সংকটে পড়ে। একই বছরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। এ বছর ইসরায়েল সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেনে আগ্রাসী হামলা চালায়।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: তৃতীয় বছরেও ভয়াবহতা
২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ২০২৫ সালেও অব্যাহত থাকে। পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র লড়াই চলতে থাকে। এই যুদ্ধ ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং খাদ্য সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
আফ্রিকা: গৃহযুদ্ধ ও বিদ্রোহে বিপর্যস্ত মহাদেশ
২০২৫ সালে আফ্রিকার একাধিক দেশে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলতে থাকে। সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর গৃহযুদ্ধ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। একইভাবে নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম, ইথিওপিয়ায় ফানো বিদ্রোহ এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা দেশগুলোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ
মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ ২০২৫ সালেও অব্যাহত থাকে। বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণপ্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ দেশটিকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে রাখে। এ ছাড়া থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া সীমান্তে স্বল্পমেয়াদি হলেও তীব্র সামরিক সংঘর্ষ ঘটে।
মন্তব্য করুন