মোসা. মিশকাতুল ইসলাম মুমু
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৫০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চারদিক

আবাসন সংকটের সমাধান কী

আবাসন সংকটের সমাধান কী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দেশের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। তবে আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো আবাসন সংকট। এটি বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ছাত্রদের জন্য নিজস্ব কোনো আবাসিক হল নেই। মেয়েদের জন্য আছে মাত্র একটি হল, যেখানে স্থান সংকুলান সংকট তো আছেই, সেইসঙ্গে রয়েছে গ্যাস সংকট, রান্নার চুলার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, নিম্নমানের খাবারসহ নানা ভোগান্তি।

ছেলেদের জন্য একসময় একটি হল থাকলেও তা এখন দখলদারদের কবলে। ফলে জবির অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে নিরুপায় হয়ে পুরান ঢাকার উচ্চভাড়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেস কিংবা বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়। এসব স্থানে নিরাপত্তার অভাব, জীবনের ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত খরচ শিক্ষার্থীদের জীবন কঠিন করে তোলে। টিকে থাকার জন্য অনেক শিক্ষার্থী স্বল্প বেতনের টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজ করতে বাধ্য হয়। যার ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুগছে এসব সমস্যায়। কারও কারও জন্য মাস শেষে ভাড়া মেটানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে পড়ালেখা বন্ধের উপক্রম হয় তাদের পক্ষে। কেউ কেউ এতটা নিরুপায় হয়ে পড়ে যে, পুনরায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়। শুধু আবাসনের জন্য তাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

আরও কষ্টের বিষয় হলো—কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদীর মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে কিছু শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে ক্লাস করছে শুধু ঢাকায় বাসা ভাড়া মেটাতে পারবে না বলে। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক চাপ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলছে পড়াশোনার ওপর।

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হল না থাকা শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং মানসিক বিকাশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে—এতে কোনোই সন্দেহে নেই। এটি একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে; একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ে হতাশা ও ক্ষোভ।

এ পরিস্থিতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কেরানীগঞ্জে যে নতুন ক্যাম্পাস তৈরি হচ্ছে, সেখানে যেন দ্রুত অস্থায়ী হলেও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের তালিকা করে অন্তত একটি ন্যায্য ভাতা চালুর চিন্তাও করা যেতে পারে। পাশাপাশি নতুন হল নির্মাণে সরকারকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

একটি গর্বের বিদ্যাপীঠ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন টিকে থাকার সংগ্রাম সত্যিই দুঃখজনক। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোসা. মিশকাতুল ইসলাম মুমু

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামনগরে আগুন, জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪

নাসীরুদ্দীনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানালেন মির্জা আব্বাস

মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘শক্তির অপব্যবহার’ বলে আখ্যা ভারতীয় সাংবাদিকের

পৌনে ২ লাখ লোকের ইতিবাচক পরিবর্তন আনল ব্র্যাক ব্যাংক 

ডিমের আঁশটে গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো নিয়ে বড় সুখবর দিলেন লুৎফে সিদ্দিকী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরিবর্তন এনে পরিপত্র জারি

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত পাসের দাবি আহছানিয়া মিশনের

ক্ষমতায় গেলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সব কারখানা সচল করা হবে : জামায়াত আমির

১০

যুব সমাজ ও নতুনরা ভোটের চিত্র বদলে দেবে : তুলি

১১

নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে আমরা কেউ বাড়ি ফিরব না : আবু আশফাক

১২

ধানের শীষের প্রচারণায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন

১৩

টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ

১৪

তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী

১৫

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে কেউ আমন্ত্রিত ছিলেন না, দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের

১৬

বিজয় থালাপতি এখন বিপাকে

১৭

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যে নতুন ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

নির্বাচন ও ডিজিটাল বাস্তবতা নিয়ে ‘ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ’ চট্টগ্রাম সিটির প্রস্তুতি সভা

১৯

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার 

২০
X