

‘অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলে.../
যেন এক মুঠো রোদ্দুর আমার দুচোখ ভরে তুমি এলে.../
কত বেদনার বিষণ্ন মেঘে ভেসে ভেসে/
এলে তুমি অবশেষে.../’
আবু হেনা মোস্তফা কামাল রচিত রুনা লায়লার কণ্ঠে এ গানটি বহুলশ্রুত, বেশ সমাদৃত। প্রায় এরকম দ্যোতনায় দেশে এলেন তারেক রহমান। ১৭ বছর প্রবাস জীবন শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন গত ২৫ ডিসেম্বর। এ দিনের অন্যরকম মাহাত্ম্যও রয়েছে, বড়দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এ দিনে তারেক রহমান বড় নেতা হিসেবেই দেশের মাটিতে পৌঁছেছেন। আর এ শুধু দেশ নয়, শাব্দিক অর্থেই মায়ের কাছেও ফেরা। তবে তিনি যখন দেশে পৌঁছান, তখন তার মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু তিনি না ফেরার দেশে যাত্রা করেন সন্তান দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায়, ৩০ ডিসেম্বর। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর অভূতপূর্ব জনস্রোতের বিশাল জানাজা শেষে তিনি সমাহিত হন স্বামীর সমাধির পাশে। একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের দৃশ্যত পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু খালেদা জিয়া তো শুধু ব্যক্তি ছিলেন না! ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তার অর্জন পাহাড়-প্রমাণ। সঙ্গে ছিল কোটি মানুষের দায়িত্ব। এখন যা বহনের প্রধান দায়িত্ব জিয়া-খালেদার একমাত্র সন্তান তারেক রহমানের। তিনিই এখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশমাতা খালেদা জিয়ার রক্ত ও রাজনীতির উত্তরাধিকার। এর ওপর জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। ফলে যে কোনো সময়ের চেয়ে তারেক রহমানের দায়িত্ব এবং সামগ্রিক জটিলতা অনেক বেশি। আর এ ভার বহনে তারেক রহমান প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি নিজেই নতুন বছরের প্রথম দিনে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার। আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—যেখানে আমার মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করব সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে।’
বোঝাই যাচ্ছে দল এবং দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমান দৃঢ় অবস্থানে। আর এটি শুধু সাধারণ কোনো ধারণা নয়, শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত; যা তারেক রহমান নানান চড়াই-উতরাইর মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন। তিনি কোনো ললিপপ রাজনীতিক নন, দুই রাষ্ট্রনায়কের স্রোতধারা ধারণ করে পোড়খাওয়া এক জাতীয় নেতা। তিনি পদে পদে শিখেছেন বলে ধারণা করা হয়। কারও কারও মতে, তার প্রধান শিক্ষা হয়েছে ওয়ান ইলেভেন সরকারের ১৮ মাসের কারা নির্যাতন ও অত্যাচার এবং হাইড্রোলিক প্রেশারে দেশ ছাড়ার পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বৈরিতার কারণে ১৭ বছরের প্রবাস জীবনে। ওয়ান ইলেভেন সরকার এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বৈরিতাই শেষ কথা নয়। এরপরও তাকে নানানমুখী প্রতিবন্ধকতা সামলাতে হয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে, চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর মনে করা হয়েছিল, সহসাই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। এমনকি ফ্যাসিস্ট পতনের ১১ দিনের মাথায় ১৬ আগস্ট তার দেশে ফেরার উদ্যোগ ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বরং তার দেশে ফেরা নিয়ে অনেকরকম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে, ঘোলা হয়েছে অনেক জল। গুজব আর রটনাও কম হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি নিজেও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ফেসবুকে। একপর্যায়ে তার দেশে ফেরার বিষয়টি অধিকতর মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু মেঘ সহসাই কেটে গিয়ে স্নিগ্ধ রোদেল সূর্যের মতো তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেন। তার ফেরা বিজয়ের বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ১৭ মিনিটের ভাষণ অসাধারণ এক দলিল হিসেবে বিবেচিত। স্বল্পমেয়াদি এ ভাষণে এমন কোনো জরুরি বিষয় নেই, যা তিনি উল্লেখ করেননি। আর তার ঐতিহাসিক এ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু দেশের অভ্যন্তর নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রয়টার্স, এএফপি এবং বিবিসির মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। যেখানে তাকে অভিহিত করা হয়েছে বাংলাদেশের আগামী দিনের নেতা বা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
বিশ্বের অধিকাংশ শক্তিশালী গণমাধ্যম মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে। তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি খুবই ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী। ১৭ বছরের মামলা আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এ রাজসিক প্রত্যাবর্তনকে পরিবর্তনের ‘প্রতীক’ হিসেবে দেখছে বিশ্বসম্প্রদায়। এ আলোকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে—নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির শিরোনাম—সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে পৌঁছেছেন, যা আগামী নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তারেক রহমানকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে শিরোনাম করেছে—২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে থাকা তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক। শুধু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতেও তারেক রহমানের এ ফেরা সাধারণ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রে ফেরার একটি বড় ধাপ। দেশের অভ্যন্তরেও একইরকমের পারসেপশন সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও অসংখ্য ‘কিন্তু-যদি-তবে’ থেকেই যাচ্ছে। তাকে ঘিরে যেমন ‘লাইট অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য টানেল’ দেখা যাচ্ছে, তেমনই অন্ধকারে অনেক খেলাও কিন্তু আছে ভেতরে-বাইরে। রাজনীতির এটিই বাস্তবতা।
আমাদের দেশে রাজনীতি অধিকতর জটিল। প্রসঙ্গক্রমে স্মরণ করা যেতে পারে, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাজনীতিতে প্রধান বিভাজন হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং অ্যান্টি আওয়ামী লীগ স্রোত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে আওয়ামী রাজনীতির ধারা মরুপথে বাঁক নিয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। নিদেনপক্ষে চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি হয় তাতে আওয়ামী লীগের জন্য কোনো ‘খানা’ নেই বলেই ধরে নেওয়া যায়। তবে ভণ্ডুল করার অপচেষ্টা করবে না, তা তো কেউ বলেনি! বিশেষ করে পলাতক আওয়ামী লীগ হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অন্যরকম আলামত হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদিও ক্ষমতাসীন একাধিক শক্তি এবং প্রকাশ্যে সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোও আওয়ামীবিরোধী শক্ত অবস্থানে আছে, অন্তত প্রকাশ্যে। যদিও আওয়ামী ভোটব্যাংকের দিকে সবার লোলুপ নজর অনেকটা নির্লজ্জ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আওয়ামী ভোট যেন গল্পের কাকের ঠোঁটে মাংস টুকরোর মতো।
এদিকে ৫ আগস্টের বেনিফিশিয়ারি শক্তিগুলোর মধ্যে বিভক্তি-বিভাজন নগ্নভাবে স্পষ্ট। আর বিএনপি ও জামায়াতকে কেন্দ্র করে দুটি শক্তিশালী ধারা প্রায় সমানে সমানে চলমান বলে অবস্থাদৃষ্টে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির ঘাড়ে জামায়াতের নিঃশ্বাসও অনুভব করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের ‘সফল প্রত্যাবর্তন’ রাজনীতিতে তাকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তাতে বিপক্ষ শক্তিগুচ্ছকে অনুষ্ঠান শেষে বেলুনের মতো বিবেচনা করছেন অনেকই। কেউ বিবেচনা করছেন বৃক্ষের পাশে গুল্ম-লতার মতো। এরপরও সামগ্রিক গতি-প্রকৃতি যেভাবে বারবার বাঁক নিচ্ছে, তাতে ভোটের রাজনীতির কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা অনেকের পক্ষেই নিশ্চিতভাবে ধারণা করা কঠিন। আবার কারোরই দ্বিমত নেই যে, জামায়াত এবার মরণকামড় দেবে। কিন্তু তা কি ঘাড়ে নাকি কোমরে দেবে সেটিই হচ্ছে দেখার বিষয়। তবে পায়ে যে দেবে না সেটি কিন্তু ধরেই নেওয়া যায়। প্রসঙ্গত, বিএনপির এক প্রকার পা ধরেই রাজনৈতিক প্রবণতায় জামায়াত আজকের অবস্থায় পৌঁছেছে। ক্ষমতার স্বপ্নও দেখছে বলে অনেকের ধারণা। যদিও তারেক রহমান ফেরার পর সেই স্বপ্ন টুটে গেছে। তাই বলে ‘বিশাল’ বিরোধী দল হওয়ার বাসনা ত্যাগ করেছে—আলামত এমনটা বলে না। এদিকে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও পলাতক দলটি কোন দিকে ফাউল করবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ফলে গুপ্ত আওয়ামী লীগ ভোটের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য এক প্রকার আতঙ্ক। আর একসময়ে বিএনপির সঙ্গে একই বৃন্তের ফুলটি জামায়াত সাবেক ক্ষমতাসীন দলটির জন্য একেবারে ধুতরা ফুল হয়ে গেছে! এই জামায়াত কতদূর কী খেলবে সেটিও বিবেচ্য। বিবেচনায় রাখতে হবে, সাংগঠনিক খেলোয়াড় হিসেবে জামায়াত আনপ্যারালাল। এদিকে বিচারের নামে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়েও জামায়াতকে কাবু করা যায়নি। আর হাসিনার মতো রাজনীতির ধূর্ত শৃগালও জামায়াতকে চিনতে পারেননি। ফলে শেন নজর রেখেছে শুধু বিএনপির দিকে এবং ‘বিএনপি নিধন’ ব্রতে সময় ব্যয় ও শক্তি ক্ষয় করেছে। ওদিকে কাকের বাসায় কোকিলের ছা হিসেবে সংগঠিত ও মাসেল পাওয়ার হিসেবে শুধুই বিকশিত হয়েছে জামায়াত। সেই জামায়াত এখন বিএনপি, তথা তারেক রহমানের মুখোমুখি। যদিও সম্প্রতি অন্য কথা বলেছেন আমিরে জামায়াত। কিন্তু অনেকের মতে এটি হচ্ছে, ‘বগলে ইট মুখে শেখ ফরিদ!’ এই দলের আস্তিনের আড়ালে কত প্রকার বিষমাখা ছুরি আছে কে জানে! এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, পলাতক আওয়ামী লীগ এবং প্রকাশ্য ও গুপ্ত জামায়াতকে মোকাবিলা করে তারেক রহমান কতদূর কী করতে পারেন। তবে বিএনপিপ্রেমীদের আশায় বুক বাঁধার যথেষ্ট ভিত্তি আছে। কেননা, জনস্রোত তারেকমুখী, সাগরের জোয়ারের মতো। বাস্তবতা হচ্ছে, খালের জোয়ারও কিন্তু ঠেকানো কঠিন। এ বাস্তবতা অনুধাবন করেই সম্ভবত তারেক রহমান বলেছেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ প্ল্যান মানে পরিকল্পনা, এটি আমজনতাও এখন বোঝে। এ নিয়ে একসময় মুখরোচক বয়ান বেশ পরিচিত ছিল, ‘পরী উড়ে গেল, পড়ে রইল কল্পনা।’ নিশ্চয়ই এর পুনরাবৃত্তি হবে না! এ প্রত্যাশা সবারই।
এদিকে ইতিহাস বলে, জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত নেতৃত্বের উচ্চতা ও ভাগ্যবান দল হিসেবে বিএনপি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এ ধারায় তারেক রহমান ভাগ্যের বরপুত্র হিসেবে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ২৫ ডিসেম্বর। আর বিএনপির সামনে এখন দৃশ্যত চূড়ান্ত সুদিন। সঙ্গে এও মনে করা হচ্ছে, তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে পুরো দেশের রাজনৈতিক বাঁকবদল ঘটতে পারে। যেমনটি ঘটেছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। তিনি বাকশালের কফিন থেকে গণতন্ত্রকে জিন্দা করেছিলেন। দেশকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য উচ্চতায়। অনেকেই মনে করেন, তারেক রহমান এ ধরনেরই কোনো অবদান রাখবেন দেশের রাজনীতিতে। যে কারণে তিনি বলেছন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ পর্যবেক্ষক মহল বলছে, এটি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার প্ল্যান নয়, এটি হচ্ছে দেশের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে প্ল্যান। যার আলামত এর মধ্যে খুবই পরিষ্কার। আর তারেক রহমান তো কারও বিরুদ্ধেই বলছেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষরা মনে করেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ভিত্তি হচ্ছেন তারেক রহমান। আরও অনেক কারণে তার প্রতি জনপ্রত্যাশা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আর এখানেই আছে বিপত্তির শঙ্কা। কারণ, অনেক প্রত্যাশায় সামান্য গলদ ধরা পড়লেও মানুষ বেশি ব্যথিত হয়। সঙ্গে আরেকটি বিষয় গণিতের সূত্রের মতো বিবেচ্য। তা হচ্ছে, যার সুযোগ বেশি তার ঝুঁকিও বেশি। বলাই হয়, ‘চার্ম অ্যান্ড হ্যাজার্ড হাত ধরাধরি করে চলে।’ আমাদের উপমহাদেশে এর দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন বেনজির ভুট্টো। অবশ্য এদিক থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা প্রশ্ন বর্তমান সরকার বেশ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। অতএব একটি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু বাংলাদেশ প্রত্যাশা করাই যায়। এজন্য ১৭ বছর পর দেশে ফিরে ১৭ মিনিট বক্তৃতায় তার উচ্চারণ ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্টি’ যেন সফল হয়। কারণ, অনিশ্চয়তার পথের ক্লান্ত পথিক বাংলাদেশের জন্য আর কোনো বিকল্প নেই। বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, চলমান অবস্থা কিন্তু ৭৫-এর চেয়েও জটিল। তখন সক্রিয় ছিল এককেন্দ্রিক থিংকট্যাংক। এখন সক্রিয় বহুমুখী থিংকট্যাংক। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এরা বেশি বেপরোয়া এবং শক্তিশালী।
শেষ কথা হচ্ছে, তারেক রহমান বন্দনার প্লাবনে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে শামিল হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও। তিনি বলেছেন, ‘তারেক রহমান সম্ভবত বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।’ এর সঙ্গে তিনি খুবই গভীরের জরুরি কথাটি বলেছেন, ‘ভিত্তির সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন এবং বাংলাদেশের রাজনীতির বারুদের স্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতারও একটি পরীক্ষা।’ মাইকেল কুগেলম্যান যা ২৫ ডিসেম্বর সংক্ষেপে বলেছেন একবার, সেটিই কিন্তু ভিন্নভাবে তারেক রহমান বলেছেন বহুবার। সঙ্গে একটি বিষয় অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে, কর্নেল অলির মতো লোক যখন জামায়াতের চাদরে মধ্যে আশ্রয় নেন, তখন অন্ধকারের খেলাকে অবহেলা করা সমীচীন হবে না। বরং মাইকেল কুগেলম্যানের উচ্চারণ আবারও গভীর বিবেচনায় নিতে হবে, ‘বাংলাদেশের রাজনীতির বারুদের স্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতাও একটি পরীক্ষা।’
লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
মন্তব্য করুন