কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৪, ০৩:১৬ এএম
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ০৯:০৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

অবন্তিকাদের বাঁচাতে হবে

অবন্তিকাদের বাঁচাতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্ভ্রম তাদের সহপাঠী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং শিক্ষকদের কাছেও নিরাপদ নয়। বিষয়টি গোটা দেশ ও জাতির জন্য দুঃখজনক এবং লজ্জাকর। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, ক্ষেত্রবিশেষ এর কোনো প্রতিকার নেই। ফলে একজন শিক্ষার্থী তার ক্ষোভ এবং অসহায়ত্বের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রকাশ করে আত্মহত্যা করেছেন। এর মাধ্যমে আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের যে অন্তঃসারশূন্য চিত্রের প্রকাশ ঘটেছে, তা কোনো শব্দ বা বাক্য দিয়ে প্রকাশযোগ্য নয়। দেশের বিবেকবানরা খুব স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনাকে একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে খোদ দেশের রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা কুমিল্লায় তার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। ফাইরুজ অবন্তিকা আত্মহত্যার আগে এক ফেসবুক পোস্টে তার মৃত্যুর জন্য একজন সহপাঠী ও একজন সহকারী প্রক্টরকে দায়ী করেছেন।

এতে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ওপর দিয়ে কী গেলে আমার মতো নিজেকে এতো ভালোবাসে যে মানুষ সে মানুষ এমন কাজ করতে পারে। আমি জানি এটা কোনো সলিউশন না কিন্তু আমাকে বাঁচতে দিতেসে না বিশ্বাস করেন। আমি ফাইটার মানুষ। আমি বাঁচতে চাইছিলাম... এটা সুইসাইড না, এটা মার্ডার। টেকনিক্যালি মার্ডার।’ তার মা সাংবাদিকদের বলেছেন, মূলত ওই সহকারী প্রক্টর আর কয়েকজন সহপাঠীর মানসিক উৎপীড়নের কারণেই আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছে তার মেয়ে। অবন্তিকার আত্মহত্যার পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী এবং সহকারী প্রক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার এবং সহকারী প্রক্টরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আমাদের সমাজকে অবন্তিকারা একা নন, আরও আছেন। অবন্তিকার আত্মহত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ঠিক সে সময়ে উঠে এসেছে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবন্তিকার মতো শিক্ষক কর্তৃক যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাবের শিকার হন ফিল্ম ও টেলিভিশন বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী ফারজানা মিম। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে টক শোতে নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। মিম জানান, দুই বছর আগে যৌন হয়রানি ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে এখনো বিচার পাননি তিনি। উল্টো তাকে বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেল করানো হয়েছে। এমনকি তার মা-বাবাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ওই ছাত্রী বলেন, ‘কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে অন্যায় করেছি বলে আমার মনে হয়। কারণ আজকে আমি ফেল। আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে। কোনো মহিলা টিচারের অনুপস্থিতিতে আমাকে দরজা আটকে জোর-জবরদস্তি করা করা হয়। আমি হয়তো তার মতো সাহসী হতে পারিনি। তার জন্য হয়তো আমি মারা যাইনি। কে জানে এরপর আমি বেঁচে থাকব কি না। আমাকে একঘরে করে দিয়েছেন শিক্ষকরা। আমাকে অনার্সের ভাইভায় ফেল করানো হয়েছে। প্রতিবাদের ফলস্বরূপ আজকে আমি অনার্স ফেল। একজন শিক্ষক আমাকে ৪০ মার্কের ইনকোর্স পরীক্ষায় ডাবল শূন্য দিয়েছেন। এটা তো খুন। এভাবে সমাজে একের পর এক মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে খুন করে ফেলা হচ্ছে।’ এরই মধ্যে অবন্তিকার আত্মহত্যার প্ররোচনায় সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। আমাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। কেননা শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এ সংকটের সমাধান করা যাবে না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ, এসএসসি পাসেও আবেদন

ইরানকে চাপে ফেলতে ইইউ ত্রয়ীর নতুন সিদ্ধান্ত

ডিজিটাল মোবাইল জার্নালিজম ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে : উমামা ফাতেমা 

গাজায় ভয়াবহ ক্ষুধা, মানবিক সুনামির আশঙ্কা

চট্টগ্রাম রেলস্টেশন : স্ক্যানার আছে, ব্যবহার জানা নেই

নতুন যুদ্ধের সতর্কবার্তা ইরানের, ঘরে ঘরে প্রস্তুতির আহ্বান

চাকরি দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া, চলছে অনলাইনে আবেদন

ছোট্ট তিলেই লুকিয়ে থাকে ক্যানসার বীজ? যা বলছেন চিকিৎসক

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

স্কুল ব্যাগে মিলল ৭ লাখ টাকার জালনোট, গ্রেপ্তার ১

১০

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১১

জুমার দিন মসজিদে এসে যে ৩ কাজ ভুলেও করবেন না

১২

২৯ আগস্ট : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৩

যারা অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তাদের বিচার হতেই হবে : হুম্মাম কাদের

১৪

স্বাস্থ্য পরামর্শ / চোখের লাল-জ্বালা: এডেনোভাইরাল কনজাঙ্কটিভাইটিসের প্রাদুর্ভাব

১৫

ইতালিতে ‘ও লেভেল’ পরীক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য

১৬

সাবেক এমপি বুলবুলের পিএস সিকদার লিটন গ্রেপ্তার

১৭

টাকা না পেয়ে ফুপুকে গলাকেটে হত্যা করল ভাতিজা

১৮

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য বিশেষ কোটা বাতিল 

১৯

আন্তর্জাতিক ফেলোশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ছাত্রদলের ঊর্মি

২০
X