

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনে একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সায়েমুজ্জামানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে প্রায় ৫ ঘণ্টা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
তার আগে বিকেলে পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী সারজিস আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙালেও সেগুলো অপসারণে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি তাদের। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রাত সাড়ে ১০টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে সাময়িক আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন বক্তারা। অবিলম্বে দাবি মানা না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, আমাদের যুক্তিসংগত দাবি নিয়ে এসেছিলাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একই সঙ্গে বারবার আমরা সময় বেঁধে দিলেও তারা তেমন কোনো সাড়া দেননি। আমরা রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি।
এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে শাপলা কলির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও পঞ্চগড় শহর জামায়াতের সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন সরকার বলেন, আমরা ৫টি দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলো হলো—
১. গত ফ্যাসিস্ট আমলে ৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে যেসব প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের গেজেট থেকে বাদ দিতে হবে।
২. দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হতে পারবেন না—তিনি যে দলেরই হোন না কেন।
৩. যারা এর আগে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার ছিলেন না, বিশেষ করে মাদ্রাসার শিক্ষকরা-যারা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন—তাদের এ কাজে নিয়োগ দিতে হবে।
৪. তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কোনো এক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে অতিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
৫. পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেছি। তারা আমাদের কাছে ১২ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তাদের অনুরোধে আমরা আমাদের কর্মসূচি আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, যারা অভিযোগ করছে তাদেরও এখনো ব্যানার-ফেস্টুন আছে। আমি দুই পক্ষকে শোকজ দিয়েছি। পক্ষপাতমূলক আচরণ নয়, আমরা নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত দেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যানার ফেস্টুনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সেগুলোর ছবি তুলে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছিলাম। তারা এটিকে ব্যানার বলে অবহিত করেছেন। পরে আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানছে না। এ ছাড়া শহরের বিদ্যুৎ পোল, গাছ এবং সরকারি স্থাপনায় লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন আমরা অপসারণ করেছি। দুই পক্ষই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।
মন্তব্য করুন