দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন ফুটবল মৌসুম। প্রস্তুত হচ্ছে ক্লাবগুলো। সামর্থ্য অনুযায়ী লক্ষ্য অর্জনে অঙ্ক কষা হচ্ছে। লিগের খেলাগুলো যেখানে হবে, সেই ভেন্যু প্রস্তুত তো!
বিগত দিনে একেক ক্লাব একেক ভেন্যুকে হোম হিসেবে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু লিগ শুরুর সময় এসে দেখা গেছে একাধিক ভেন্যু প্রস্তুত নয়। এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। ভেন্যু তালিকা থেকে বিভিন্ন স্টেডিয়ামকে বাদও দেওয়া হয়েছিল। আসন্ন লিগের ভেন্যু হিসেবে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা ছাড়াও কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ স্টেডিয়ামকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলোতে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি থাকে। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যে খেলার মাঠ ভালো না হলে তা ঘরোয়া শীর্ষ লিগকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কী পদক্ষেপ নিয়েছে—প্রশ্নের জবাবে বাফুফে মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিগ ম্যাচ আয়োজনের জন্য ভেন্যু বরাদ্দ নেওয়া এবং আনুষঙ্গিক কাজগুলো বাফুফে থেকে করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ভেন্যুগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং লিগ ম্যাচ আয়োজনে অবশ্য পালনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে। এ জন্য ক্লাবগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সে তাগিদের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাবগুলোর খুব একটা হেলদোল আছে বলে মনে হচ্ছে না! বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবের কথা কিন্তু সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। সাবেক এ ফুটবলার কালবেলাকে বলছিলেন, ‘আমি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছি। ৩১ আগস্ট দেশে ফিরব। দেশে আসার পর আমি সরাসরি কুমিল্লা যাব। গিয়ে ভেন্যু দেখব। কোনো কাজ করার থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে শুরু হবে নতুন মৌসুম। গত আসরের মতো এ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংস। ভেন্যুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অন্ধকারে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খানও। এ প্রসঙ্গে সাবেক এ ফুটবলার বলছিলেন, ‘আমরা হোম ভেন্যু হিসেবে মুন্সীগঞ্জ স্টেডিয়ামকে বেছে নিয়েছি। স্টেডিয়াম প্রস্তুত করার কাজটা তো স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা জেলা প্রশাসন করে থাকে। শুনতে পাচ্ছি এ ভেন্যুতে জেলা চ্যাম্পিয়নশিপ হবে।’
ভেন্যু নিয়ে ক্লাবগুলোর এ উদাসীনতা নতুন মৌসুম শুরুর আগে জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অথচ ভালো ফুটবলের পূর্বশর্ত হচ্ছে ভালো মাঠ। বিভিন্ন ক্লাবের হোম ভেন্যু কি আদৌ সে শর্ত পূর্ণ করতে পারছে! ফরটিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম মাঠের বিষয়ে যত্নবান হওয়ার প্রসঙ্গে ক্লাবগুলোর কর্মকর্তাদের আহ্বান জানালেন, ‘ক্লাবগুলো কয়েক কোটি টাকা খরচ করে দল গঠন করে। অথচ খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য মাঠের পেছনে কয়েক লাখ টাকা খরচ করতে চায় না। এটা খুবই দুঃখজনক। কারণ খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় চাই ভালো মাঠ। তা ছাড়া ভালো ফুটবলের পূর্বশর্তও কিন্তু উন্নত মাঠ। বাফুফের সহায়তা নিয়ে মাঠের ইস্যুতে ক্লাবগুলোকে আরও সজাগ হওয়া উচিত।’
হোম ভেন্যু নিয়ে ইতিবাচক আপডেট দিতে পেরেছেন ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু। সাবেক এ ফুটবলার বলছিলেন, ‘গত মৌসুমের মতো এবারও আমাদের ভেন্যু কুমিল্লা স্টেডিয়াম। এ ভেন্যু মোটামুটি ফিট আছে। কিছু কাজ অবশ্য বাকি আছে। আশা করছি, সঠিক সময়ে তাও হয়ে যাবে। এ মাঠেই মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার চ্যালেঞ্জ কাপের ম্যাচ হওয়ার কথা।’ এ মৌসুমে পাঁচ প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেশাদার লিগ কমিটি।
মন্তব্য করুন