

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ অভাবনীয় সাফল্য উপভোগ করেছে বটে, প্রভাবশালী এ প্রশাসক কোচদের যম! পান থেকে চুন খসলে কোচদের ছুড়ে ফেলেন পেরেজ। সর্বশেষ বলি জাবি আলোনসো।
পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদকে এমন এক দলে পরিণত করেছেন, যা বিশ্বের সেরা প্রতিভাদের আকর্ষণ করে। এই স্প্যানিয়ার্ড দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘গ্যালাকটিকো’ যুগের সূচনা হয়, সেটা ২০০০ সাল থেকে। পেরেজ সভাপতি হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন—প্রথম ২০০০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। পরে ২০০৯ সালে তিনি ফের পদে ফিরে আসেন, দায়িত্বটা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় সাফল্যের রঙে মাদ্রিদ রঙিন হলেও বার্নাব্যু টাচলাইনে কোচদের রদবদল ছিল নিয়মিত। পেরেজের দুই মেয়াদে প্রায় ২০ কোচ এসেছেন এবং গেছেন। জাবি আলোনসো পেরেজের এই নির্মম ম্যানেজারিয়াল পরিবর্তনের সর্বশেষ শিকারে পরিণত হয়েছেন—দায়িত্ব নেওয়ার পর মৌসুমের মাঝপথেই ক্লাব ছাড়তে হলো সাবেক এ মিডফিল্ডারকে।
রিয়াল মাদ্রিদের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের ক্ষুধার সামনে হোসে আন্তোনিও কামাচোর চেয়ে দ্রুত আর কেউ নতি স্বীকার করেননি। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে মাত্র ছয় ম্যাচ টিকেছিলেন। এই কিংবদন্তি রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড় ২০০৪ সালে গ্যালাকটিকোদের সামলাতে ফিরে আসেন, কিন্তু লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কয়েকটি হারের পর তিনি দ্রুত পদত্যাগ করেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন হুলেন লোপেতেগি, যিনি ২০১৮-১৯ মৌসুমের শুরুতে ১৪ ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৮ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে স্পেন জাতীয় দল থেকে লোপেতেগিকে ছিনিয়ে এনেছিল। তা ছাড়া জিনেদিন জিদানের টানা তিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর সমর্থকদের আশ্বস্ত করাটা যে কোনো কোচের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব! মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোয় ৫-১ গোলের অপমানজনক হারের পর লোপেতেগিকে বরখাস্ত করা হয়। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মারিয়ানো গার্সিয়া র্যামন, যিনি কামাচোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ২০ ম্যাচ টিকতে পেরেছিলেন। গার্সিয়া র্যামনের প্রস্থানের এক বছর পর হুয়ান রামন লোপেজ কারো ২০০৫-০৬ মৌসুমে সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়ে মাত্র ২৪ ম্যাচ স্থায়ী হন। তিনি ছিলেন পেরেজের প্রথম মেয়াদে নিযুক্ত এবং বরখাস্ত হওয়া শেষ ম্যানেজার।
এক দশক পর রাফায়েল বেনিতেজ টিকেছিলেন লোপেজ কারোর চেয়ে এক ম্যাচ বেশি। হুয়ান্দে রামোস ২০০৮-০৯ মৌসুমে ২৭ ম্যাচে নেতৃত্বে ছিলেন। বার্নাব্যুতে এল ক্ল্যাসিকোয় পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার কাছে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া পেরেজের কাছে ছিল ক্ষমার অযোগ্য। পরের তালিকায় আছেন সান্তিয়াগো সোলারি। তিনি ৩২ ম্যাচে টিকে থাকতে পেরেছিলেন। পরে পেরেজ জিদানকে ফের ফিরে আসার অনুরোধ করেন। পেরেজ আমলের অষ্টম স্বল্পস্থায়ী ম্যানেজার হলেন জাবি আলোনসো, যিনি চাকরিতে ৩৪ ম্যাচ টিকেছিলেন। বায়ার লেভারকুসেন তার সাফল্যের পর আগমনের সময় অনেক উদ্দীপনা ছিল, কিন্তু তিনি জাদুকরি রণকৌশল প্রয়োগে ব্যর্থ হন। তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে পরাজয় তাকে পেরেজের ক্রোধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। তালিকার শেষ দিকে রয়েছেন ভান্দারলি লুক্সেমবার্গো (৪৫ ম্যাচ) এবং ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি (৪৮ ম্যাচ)।
মন্তব্য করুন