মুন্সীগঞ্জের তালতলা গৌরগঞ্জ খাল। মুন্সীগঞ্জের দুটি উপজেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খালটি পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীকে সংযুক্ত করেছে। লৌহজংয়ের গৌরগঞ্জ খালের তীরবর্তী মানুষ এখন ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
বর্ষা মৌসুম আসার আগেই টঙ্গিবাড়ীর শিলিমপুর, তস্তিপুর কিংবা ভোরন্ডা অঞ্চলের মানুষ যেমন ভাঙন আতঙ্কে থাকে। ঠিক তেমনি ভাঙন আতঙ্কে থাকে লৌহজং উপজেলার কাজীরগাঁও গ্রামের মানুষ। তিন হাজারেরও অধিক মানুষের বসবাস এই গ্রামে। ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে প্রাইমারি স্কুল, মসজিদ, গোরস্তানসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। পাশাপাশি এই গ্রামটির বাসিন্দাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ২ হাজার মিটারের একটি সড়ক। সেই সড়কের বেশিরভাগ অংশ ভাঙা, খানাখন্দে ভরা। সড়কটি সংস্কারসহ স্থায়ী বাঁধ ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার্থে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে খালের প্রশস্ততা বৃদ্ধি পায়। তখন এই খাল দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বেশকিছু জেলার মালবাহী নৌযান ও যাত্রীবাহী লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করে। চলাচল করে মাটিবোঝাই বাল্কহেডও। ২০২০ সালে বৃহত্তর ঢাকা প্রকল্প-৩ এর আওতায় দুই পর্বে ‘মামা খেতের পাড়া থেকে কাজীরগাঁও’ পর্যন্ত খাল সংলগ্ন ২ হাজার মিটার পিচঢালা সড়ক নির্মাণ হলেও কয়েক বছরে খালের ভাঙনে প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক ভেঙে যায়। ভাঙনে ইতোপূর্বে স্থানীয়দের বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা গৌরগঞ্জ খালে বিলীন হয়েছে। ফসলি জমিসহ সড়কটি দ্রুত সংস্কারসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, গৌরগঞ্জ খালের বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুন্সীগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোনায়েম সরকার বলেন, কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনে প্রায় দুই হাজার মিটার সড়কটির অনেকাংশেই ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, লৌহজং উপজেলার কাজীরগাঁও গ্রামের একমাত্র সড়কটি পরিদর্শন করেছি। আমরা ইমার্জেন্সি বরাদ্দ চেয়েছি। তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে কাজ করা হবে। আশা করি বর্ষার আগেই কাজ শুরু হবে।