সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭ ভাদ্র ১৪৩২
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৪, ০২:৩২ এএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

একসঙ্গে এগোতে চান ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতারা

অভিমান ভুলে থাকতে চান
একসঙ্গে এগোতে চান ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতারা

কমিটি গঠনে ‘তরুণ’ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিএনপি। এতে দলটির সদ্য ঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিতে অনেক সিনিয়র নেতা বাদ পড়েছেন। অথচ বাদ পড়া এসব নেতাকে মহানগরীর রাজনীতির জন্য প্রভাবশালী হিসেবেই দেখা হয়। নতুন কমিটিতে বাদ পড়া সিনিয়র নেতাদের অনেকেই অসন্তুষ্ট। ফলে কমিটি গঠনের দিন রোববার রাতেই ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা আব্বাসের বাসায় বৈঠক হয়। সেখানে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ অনেক সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। গতকাল সোমবার উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটির নেতারা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। তবে বাদ পড়া নেতাদের সবাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংঘবদ্ধ থেকে নতুন কমিটির সঙ্গে কাজ করে সামনে এগোতে চান। তারা আলাপকালে জানান, দলের যে কোনো কর্মসূচিতে আগের মতোই সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

এদিকে বাদ পড়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে গতকালও রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে দক্ষিণ নতুন নেতারা বৈঠক করেছেন। দেশ ও রাজনীতির এই সংকটকালে তারা সবাই সম্মিলিতভাবে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখবেন বলে বৈঠকে মতামত ব্যক্ত করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নবগঠিত মহানগর কমিটি খালেদা জিয়ার চলমান আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে অত্যন্ত ভালো ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। আমি মনে করি একটি ঢাকা মহানগরীর বিএনপি জন্য একটি ভালো নেতৃত্ব এসেছে।

মহানগরীর নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কালবেলাকে বলেন, কারও মুখ দেখে পদ দেওয়া হয়নি। বরং বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কার কী ভূমিকা ছিল সেসবই দলের নীতিনির্ধারকরা বিবেচনায় নিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করব, নতুন নেতৃত্ব আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী গতকাল কালবেলাকে বলেন, আমার এখন বয়স হয়েছে। কেউ তো আর দুনিয়াতে চিরদিন থাকবে না। দীর্ঘদিন ধরে মহানগরীতে রাজনীতি করি। হামলা-মামলায় জর্জরিত। জেল খাটতে হয়েছে অনেকবার। নগর বিএনপির নতুন কমিটি যেহেতু বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। যারা আন্দোলন করতে পারবেন তিনি হয়তো তাদের দিয়েই কমিটি করেছেন। আমি দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উচিত হবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের লক্ষ্যে আন্দোলন জোরদার করা।

ঢাকা উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতে আরও মূল্যায়নের সুযোগ ছিল। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে কমিটি দিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানাই।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুল হক বলেন, নতুনভাবে দায়িত্ব পেয়েছি। চেষ্টা করব সবার সঙ্গে নিয়ে কাজ করার। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিগত আন্দোলনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন অবশ্যই করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগোতে চাই। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তরুণদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং সফলও হয়েছেন। এবার আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তরুণদের ওপর যে গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তার মর্যাদা রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিসহ বিভিন্ন ইউনিট এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা নির্বাচনে তরুণদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিএনপি। বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতাদেরই নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। গত রোববার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগরীর কমিটি গঠনে তারই প্রমাণ মিলেছে। তাতে দীর্ঘসময় পর সিনিয়রদের হাত থেকে নেতৃত্ব এসেছে তরুণদের ওপর। দলটির নেতারা বলেছেন, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের ওপরই আস্থা রাখতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। সেই লক্ষ্যেই দলের বিভিন্ন স্তরে অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যা আগামীতেও অনুসরণ করা হবে।

গত রোববার ঘোষিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু গত কমিটির সদস্য সচিব এবং নতুন সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক। উত্তরের নতুন আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব আগে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। আমিনুল হক মহানগর উত্তরের গত কমিটির সদস্য সচিবই ছিলেন। এদের মধ্যে নগর বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মুখ কেবল সাইফুল আলম নীরব। এ ছাড়া মনিরুজ্জামান খান ফারুক বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক, জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া সদস্য সচিব এবং আফরোজা খানম নাসরিনকে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের নতুন আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গত কমিটির সহসভাপতি এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।

জানা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তরে নতুন গঠিত আংশিক কমিটিতে বাদ পড়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, উত্তর বিএনপির আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, কফিল উদ্দিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এজিএম শামসুল হক, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, দক্ষিণে আবদুস সালাম, নবীউল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, মনির হোসেন চেয়ারম্যান, মো. মোহন, আব্দুস সাত্তার, মীর হোসেন মীরু, মোশাররফ হোসেন খোকনসহ কয়েকজন। বাদ পড়া এসব নেতার অনেকেই মনে মনে ক্ষুব্ধ এবং অসন্তুষ্ট। এসব নেতার আলাদা আলাদা অনুসারী রয়েছে। ফলে নতুন কমিটি গঠনের পর সমন্বিতভাবে কাজ না করলে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে আবারও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকেই জানান। তবে বাদ পড়া নেতাদের সবাই দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগরে ডা. শাহাদাত হোসেন এবং বরিশাল মহানগরে দলের সিনিয়র নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারও বাদ পড়েছেন।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, গত ১৩ জুন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তের পর থেকে পদপ্রত্যাশী নেতারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। কিন্তু এবার সেই দৌড়ঝাঁপ খুব বেশি কাজে লাগেনি। বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতারা জানান, শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ঢাকা মহানগর কমিটিতে সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয় কমিটি গঠনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ঘোষিত কমিটিতে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। অবশ্য এর আগে অবিভক্ত ঢাকা মহানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মির্জা গোলাম হাফিজ, লে. জে. (অব.) মীর শওকত আলী, সাদেক হোসেন খোকা, মির্জা আব্বাস, আব্দুস সালাম, আমান উল্লাহ আমানের মতো হেভিওয়েট নেতারা দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই তুলনায় এবারের কমিটি অনেকটা তারুণ্যনির্ভর ও জুনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেন (সাবেক চেয়ারম্যান) কালবেলাকে বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নবীন বা তরুণদের দিয়ে কমিটি হয়েছে। এখন তারা প্রবীণদের সমন্বয় করবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং নবীনদের নেতৃত্বেই কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকন বলেন, কমিটিকে খারাপ বলতে চাই না। তারেক রহমান যে লক্ষ্যে নবীনদের দিয়ে কমিটি দিয়েছেন, আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। কমিটিতো দুই সদস্যের দিয়েছে। আমাদের তো আর ফেলে দেবে না। এখন আন্দোলন সফলে নতুন নেতারা যেভাবে কাজ করবেন, তাতে সহযোগিতা করব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যানসার হাসপাতালকে প্রতিশ্রুতির ১ কোটি টাকা দিচ্ছে জামায়াত

ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ রাজনৈতিক নেতারা, নতুন বিধান যুক্ত

হত্যার উদ্দেশ্যে নুরের ওপর হামলা : রিজভী

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিলে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চাপ কমবে

চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

চাকরির মেয়াদ বাড়ল র‍্যাবের ডিজি ও এসবি প্রধানের 

বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা

চট্টগ্রামে স্কুল থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

পিটার হাস বাংলাদেশে, নির্বাচনের আগে আবার আলোচনায়

১০

বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার

১১

রূপসা সেতুর নিচ থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার

১২

চবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান চসিক মেয়র শাহাদাত

১৩

কুকুর ঘেউ ঘেউ করায় মালিককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

১৪

আটক ১৪ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ

১৫

উচ্চশিক্ষায় গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : রুয়েট উপাচার্য

১৬

চবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

১৭

অভ্যুত্থানের এক বছর পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি : আদীব

১৮

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কেএসআরএমের ট্রাফিক সাইন হস্তান্তর

১৯

ইয়েমেনে হুতিদের নতুন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিফতাহ

২০
X