মহিন উদ্দিন রিপন, টঙ্গী (গাজীপুর)
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৫, ০২:৪৫ এএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৫, ০৮:৩৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সানজিদুল ইসলাম

শরীরে ২০০ গুলি, মেলেনি ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি

শরীরে ২০০ গুলি, মেলেনি ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি

সম্প্রতি দুই দফা ‘জুলাই যোদ্ধা’র তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। সেখানে গুরুতর আহত (ক-শ্রেণি), আহত (খ-শ্রেণি) এবং সামান্য আহত (গ-শ্রেণি)—এই তিন ক্যাটাগরিতে ২ হাজার ৬৪৩ জনের নাম রয়েছে। অথচ শরীরে এখনো ২০০ ছররা গুলি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সানজিদুল ইসলাম তালিকায় স্থান পাননি।

সানজিদুল ইসলাম তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গীর একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত বছরের ১৮ জুলাই উত্তরা বিএনএস সেন্টার এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন সানজিদুল। সকাল থেকেই সেই এলাকা ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। সকাল ১০টায় শুরু হয় সংঘর্ষ। ছাত্রলীগ, পুলিশ, র্যাব—সবাই একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্র-জনতার ওপর। মুহূর্তেই যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে যায় বিএনএস সেন্টার। ইটের টুকরো হাতেই ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালালে অনেকে শহীদ হন। সেদিন সানজিদুল ইসলামের শরীরে অন্তত ২০০ ছররা গুলি বিদ্ধ হয়।

দুপুর দেড়টার দিকে গুলিবিদ্ধ সানজিদুলকে সহযোদ্ধারা উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এক্স-রে করা সম্ভব নয়। এক বন্ধুর ভাইয়ের সহযোগিতায় সেদিন মেসে ফিরে যান তিনি। পরদিন গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে এক্স-রে করান।

পরিবার যখন জানতে পারে, তখন তাকে দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিচিত ডাক্তার মো. রবিউল আলমের পরামর্শে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন রংপুর সিএমএইচে, সেখানেই হাতের থেরাপি চলে এক সপ্তাহ।

ঢাকায় ফিরে তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (টাকসু) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ১৯ হাজার টাকা সহায়তা দেন এবং ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসা নিলেও পুরোপুরি সুস্থ হননি সানজিদুল। এখনো শরীরে ২০০-র বেশি ছররা গুলি নিয়ে দিন পার করছেন। প্রচণ্ড ব্যথা, দুর্বলতা তার নিত্যসঙ্গী।

জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের তালিকাভুক্ত হওয়ার আশায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য জমা দিলেও আজও তিনি আহতদের তালিকায় জায়গা পাননি। ফাউন্ডেশন থেকে কোনো সহায়তাও পাননি।

সানজিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি আমরা। স্বৈরাচার হাসিনার রক্তচক্ষু ভয় করিনি। তবে ২০০-র বেশি গুলি শরীরে নিয়ে বেঁচে আছি, অথচ আহতদের তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করতে পারিনি এখনো।’ তিনি বলেন, ‘তবুও দেশ ও আন্দোলনের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকবে। আমি চাই, শহীদদের স্বপ্ন যেন পূর্ণতা পায়। আমরা যে যুদ্ধ করেছিলাম, সেটা যেন ব্যর্থ না হয়।’

সানজিদুল ইসলামের বাবা আবেদ আলী কাদেরী বলেন, ‘আমি নিজেই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। দিনের পর দিন ঘরবাড়ি ছাড়া থেকেছি। জুলাই বিপ্লবে আমার ছেলে যে সাহসিকতা দেখিয়েছে, তাতে আমি গর্বিত। আমি চাই, সরকার আমার ছেলের মতো আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেক, যেন তারা ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানকে ভদ্র আচরণ করার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

দুই সপ্তাহে ২৫ বাড়ি বিলীন, তিস্তার কবলে সর্বস্বান্ত নদীপাড়ের মানুষ

দেশে ফিরেছেন স্পিকার

ফাইনালে উঠেই কড়া জবাব দিলেন লিওনেল মেসি!

মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর আ.লীগ নেতাদের হামলার অভিযোগ

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ২

সরকার জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধ: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

গাজীপুরে ৭ তলা ভবনে আগুন, ৫ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

সুনামগঞ্জে কমছে নদ-নদীর পানি

আর্জেন্টিনার জয় উদযাপনের ভিডিও করতে গিয়ে তরুণের মৃত্যু

১০

গোল করে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গ, কী ভুল ছিল ইংল্যান্ডের

১১

মেসিদের অলআউট অ্যাটাকে মুগ্ধ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি

১২

পরপর দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে পারাটা অবিশ্বাস্য: মেসি

১৩

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী / জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশকে সমৃদ্ধ করার চেতনা হিসেবে কাজ করবে

১৪

চার দশকের ব্যবসায়িক পথচলায় শওকত আলী চৌধুরী

১৫

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

১৬

বিশ্বকাপের যে অনন্য কীর্তি এখন শুধুই মেসির

১৭

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় ৯ সদস্যের কমিটি গঠন

১৮

২০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ দেবতাখুম

১৯

আর্জেন্টিনার বিজয়ে ওমর সানী-জয়ের ‘চাবুক যুদ্ধ’

২০
X