

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি অপরিহার্য শর্ত হলেও একে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনের মধ্য দিয়েই একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচার পূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, কালো টাকার প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণকে দায়ী করেন।
অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়; তাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বিকল্প নেই।
নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, বরং ‘ওয়াচ ডগ’-এর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সংলাপে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তারা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’। এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংলাপে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুজন নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন