বগুড়ার শাজাহানপুরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও কলেজ শিক্ষক পারভেজ আলম তালুকদারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে উপজেলার মাথাইল চাপড় এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পারভেজ আলম উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বগুড়া কৈচড় বিএম কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাবরুল এলাকার সাবেক মেম্বার মনসুর তালুকদার ওরফে মন্টু মিয়ার ছেলে। এদিকে ছেলে হত্যার খবর পেয়ে বাবা মনসুর তালুকদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, পারভেজ স্থানীয় সাবরুল বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বগুড়া শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মাথাইল চাপড়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা চার-পাঁচজন তার পথরোধ করে কোপাতে থাকে। পারভেজ দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেও তাকে কোপানো হয়। পরে স্থানীরা উদ্ধার করে জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে পারভেজের বড় ভাই পান্নাকে চাঁদার দাবিতে সাগর ও তার লোকজন ছুরিকাঘাত করে। ওই সময় পান্না বেঁচে যান। এ নিয়ে আগস্টে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে অভিযোগ জানানো হয়। ওসি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ছিলিমপুর মেডিকেল ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান বলেন, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন ছিল।
শাজাহানপুর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পারভেজের পরিবারকে একাধিকবার সাগরের বিরুদ্ধে মামলার কথা বলা হয়েছিল। তবে তারা মামলা করেননি। চেয়ারম্যান অভিযোগ দিলে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তখন সাগর বাধ্য হয়ে কয়েকদিন আগে এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তার কয়েকজন সহযোগীকে কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার করা হয়।
মন্তব্য করুন