

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত তিনটি সংসদীয় আসন। প্রতিটি আসনে রয়েছে দুটি করে উপজেলা। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ জেলায় ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক মাঠের দখল নেয় আওয়ামী লীগ। ২০০৮ থেকে টানা চারটি সংসদ নির্বাচনেই একক আধিপত্য বিস্তার করে দলটি।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পাল্টে গেছে রাজনীতির মাঠের চিত্র। বদলে গেছে হিসাব-নিকাশও। তিনটি আসনেই বিএনপি এখন নিজেদের হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে। মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
এদিকে ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে বিভেদ ও অনৈক্য। দলীয় মনোনয়ন কেন্দ্র করে অন্তত দুটি আসনে চরম দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও মুন্সীগঞ্জ-১ ও ৩ আসনে বিদ্রোহ বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোমিন আলী এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন।
তবে বিএনপির ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছে, শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রতীক ধানের শীষই প্রাধান্য পাবে। তারা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর নির্যাতন-নিপীড়নের পর ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দলকে সরকার গঠনে সহায়তা করাই এখন তাদের লক্ষ্য।
নির্বাচনী মাঠে জামায়াত জোট, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য ছোট দলের উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক নেই। ফলে বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। তবে জামায়াত জোট প্রতিটি আসনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রচার চালাচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচিত হলে সিরাজদিখান ও শ্রীনগরে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে। কারও ওপর অন্যায়, অত্যাচার বা নিপীড়ন চলতে দেওয়া হবে না। বিএনপিতে সন্ত্রাস ও নেশার কোনো জায়গা নেই।
তিনি বলেন, রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতা নয়, মানুষের কল্যাণ। নির্বাচিত হলে সিরাজদিখান-শ্রীনগরবাসীর জন্য দ্রুত ৫০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করব। আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, লৌহজংকে একটি উন্নত ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। মাদকাসক্তদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খেলাধুলার অভাবে ভুগছে। সরকার এরই মধ্যে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জ সদর—এই দুই উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় মানুষকে দুটি ব্রিজের অভাবে প্রায় ৭০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয় অথবা ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা ও ফুলদি নদী পার হতে হয়। তাই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এই দুই নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ অপতৎপরতা বন্ধ করা হবে। মাদক নির্মূল, নারী উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণেও কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মন্তব্য করুন