

স্বাধীনতার পর জামালপুরের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে কোনো নির্বাচনে একযোগে সব আসনে জয় পায়নি বিএনপি। ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসন বিএনপির হাতছাড়া হয়েছিল। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ‘অধ্যুষিত’ জামালপুর জেলায় পাঁচটি আসনেই বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি।
জামালপুর-১: দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে জামায়াতে ইসলামীর নাজমুল হক সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে। এ আসনে জাতীয় পার্টির একেএম ফজলুল হক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গেলেও তিনি শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন না বলে স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতই বিজয়ের হাসি হাসবেন—বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনটাই তথ্য মিলেছে।
জামালপুর-২: ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে জামালপুর-২ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু, জামায়াতে ইসলামীর সামিউল হক ফারুকী, ইসলামী আন্দোলনের সুলতান সিরাজি ও স্বতন্ত্র অর্ণব ওয়ারেছ খান। প্রতীক জটিলতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এখনো প্রতীক বরাদ্দ পাননি। নির্বাচনের মাঠেও তিনি নেই। এ আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি বিজয়ী হবেন জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
জামালপুর-৩: মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে কাজ করছেন। তারা হলেন বিএনপির মোস্তাফিজর রহমান বাবুল, জামায়াতের মজিবুর রহমান আজাদী, জাতীয় পার্টির মীর শামসুল ইসলাম লিপটন, ইসলামী আন্দোলনের দৌলতুজ্জামান আনছারী, গণসংহতি আন্দোলনের ডা. ফিদেল নাঈম, গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান, শিবলুল বারী রাজু ও ফারজানা ফরিদ পূথী।
এখানেও বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা আজম টানা আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনী মাঠে না থাকায় বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজর রহমান বাবুল সহজেই জয় পেয়ে যাবেন।
জামালপুর-৪: সরিষাবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি সব সময়ই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসনে এবার ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। তার সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল আওয়ালের মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনে অন্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ইকবাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের কবির হাসান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আকবর। তবে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনেকটা নির্ভার বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন।
জামালপুর-৫: সদর উপজেলা, প্রথম শ্রেণির সদর পৌরসভা নিয়ে গঠিত জামালপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৮ জন। এ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ ইউনুছ আহাম্মদ, সিপিবির শেখ মো. আক্কাস আলী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’আদাত উল করীম, জাতীয় পার্টির (জেপি) মো. বাবর আলী খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মো. আমির উদ্দিন এবং গণঅধিকার পরিষদের জাকির হোসেন নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। এ আসনেও ধানের শীষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা। তবে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বিএনপির প্রার্থী ওয়ারেস আলী মামুনেরই।
মন্তব্য করুন