কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩, ১০:১৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায়ী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যের ৩ শতাংশের বেশি

বিবিএসের তথ্য
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অফিস। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অফিস। ছবি: সংগৃহীত

বিদায়ী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। অর্থবছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্র ছিল ৬ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেশি হয়েছে মূল্যস্ফীতি।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২২-২৩ অর্থবছরের সর্বশেষ মাস জুনের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। পরে তা সংশোধন করে ৬ শতাংশ করা হয়। তবে সেই লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। এদিকে, অর্থবছরের ব্যবধানে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাসে সামান্য কমেছে মূল্যস্ফীতি। জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশে। এর আগের মাসে মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবের কারণে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল গড়ে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।

চলতি অর্থবছরের সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমলেও বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। জুন মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ ছিল, এপ্রিল মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ফলে এপ্রিল থেকে বেড়ে জুনে খাদ্যপণ্য বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস।

তবে কমেছে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি। বাড়িভাড়া, আসবাব, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম কিছুটা কমেছে। মে মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতিরে হার ছিল ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ, জুনে কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর পরই আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছিল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। পরে কিছুটা কমলেও ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মার্চে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ হয়। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা আশাব্যঞ্জক ছিল না। তখন সার্বিক বা সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিবিএসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ শহরের তুলনায় এখন গ্রামের মানুষের ওপর বেশি। মে মাসে গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল। কিন্তু জুনে এসে শহরের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুন মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গ্রামে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর আগের মাসে শহরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৮। আর গ্রামে ছিল ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্টার নিউজের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু

সিলেটে লাল-সবুজের বাসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন তারেক রহমান

ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের নতুন কমিটি ঘোষণা

আমি কোনো সাংবাদিককে থ্রেট দিতে চাই না : রাশেদ খান

ভোটারদের ‘ব্রেইন হ্যাক’ করার ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি

ইতালিতে ইসলামের পরিচিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্যে ‘ওপেন ডে’ পালন

কত আসনে নির্বাচন করবে জানাল ইসলামী আন্দোলন

তারেক রহমানের সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

নির্বাচিত সরকারই স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি : রবিউল

১০

প্রতারক শামীম ওসমান গ্রেপ্তার

১১

রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম

১২

তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দেশের মানুষ : সালাউদ্দিন বাবু

১৩

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১৪

স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ, বুধবার থেকে কার্যকর

১৫

বাংলাদেশের পরিবর্তনে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

১৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় পাবিপ্রবি পেল ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

১৭

বিশ্বকাপের আগে ‘মিনি হসপিটাল’ দক্ষিণ আফ্রিকা

১৮

বিশ্বকাপে কঠিন হলো বাংলাদেশের পথ

১৯

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়ায় দোয়া মাহফিল

২০
X