উত্তম কুমার ঘোষ, যশোর
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩৩ এএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অবশেষে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ গ্রামটি

ভাসমান সেতু নির্মাণ
উদ্বোধনের অপেক্ষায় মনিরামপুরের মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা গ্রামের ভাসমান সেতু। ছবি: কালবেলা
উদ্বোধনের অপেক্ষায় মনিরামপুরের মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা গ্রামের ভাসমান সেতু। ছবি: কালবেলা

সাগর-কিংবা স্রোতধারা নদীর অস্তিত্ব নেই, তবুও দ্বীপ গ্রাম হিসেবে পরিচিত যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ ছিল না গ্রামটির। কিন্তু গ্রামবাসীর সহযোগিতায় অবশেষে সমাধান হতে যাচ্ছে শত বছরের এ সমস্যার। নিজেদের উদ্যোগে তৈরি দেশের দীর্ঘতম ভাসমান সেতুর মাধ্যমে এখন থেকে মানুষ ও যান চলাচল সম্ভব হবে এখানে। আগামীকাল শনিবার এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।

সিমেন্ট, বালু কিংবা লোহা নয়। প্লাস্টিকের খালি ব্যারেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় অর্ধকিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি। গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে এবং নিজেদের অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন ভাসমান এ সেতুটি, যা

দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। আর এতে উপকৃত হয়েছেন বন্যাকবলিত মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা ও হাকিমপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।

পারখাজুরা-হাকিমপুর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে শতাধিক ব্যক্তির সহযোগিতায় নির্মিত হয় ১২শ ফুট দৈর্ঘ্যের ভাসমান এ সেতু। এর প্রস্থ ৯ ফুট। সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হয় ১ হাজার ৪০০টি বড় আকারের প্লাস্টিকের ব্যারেল, যা সংযুক্ত রাখতে লোহার তার ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যারেলের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য দেওয়া হয় ১২শ ফুট দৈর্ঘ্যের লোহার পাত। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ভাসমান এ সেতুটি। যার পুরো অর্থই পারখাজুরা ও হাকিমপুর গ্রামবাসী দিয়েছে। যারা অর্থ সহযোগিতা করতে পারেননি, তারা স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণকাজে অংশ নেন।

পারখাজুরা বাঁওড় প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ বাঁওড়টি ঘিরে রেখেছে পারখাজুরা গ্রাম। যে গ্রামে বসবাস করে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। কিন্তু দ্বীপ সদৃশ গ্রাম হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। অন্যান্য এলাকার সঙ্গে গ্রামবাসীর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যমটিও প্রায়ই বন্ধ থাকে। ফলে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে পারখাজুরা গ্রামের মৃত আকেজ দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজ (৬০) স্ট্রোক করেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের করা হলেও কোনো যানবাহন না থাকায় পথেই তার মৃত্যু হয়। গত ৩ অক্টোবর রাতে পারখাজুরা গ্রামের দিনমজুর আতিয়ার রহমানের অসুস্থ মেয়ে তামান্না আকতারকে (৪০) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া ঝড়-বৃষ্টির সময় পারখাজুরা বাঁওড় দিয়ে সাধারণ মানুষসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পারাপারের সময় প্রায়ই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বই-খাতাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে যায়, ভেসে যায়। গত ৫ নভেম্বর সকালে রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে আসার পথে আব্দুল বারীর ছেলে মামুন হোসেন (১৭) নৌকা থেকে পারখাজুরা বাঁওড়ে পড়ে যায়। এরপর বাঁওড়ের জেলেরা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

পারখাজুরা গ্রামবাসী বাঁওড়ের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করে। কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে ভাসমান এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন শেখ ইসলাম আলী ও মহিবুল্লাহ গোলদার। তারা জানান, যখন সরকারি দপ্তরগুলোতে আবেদন করার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, তখন আমরা এই সেতু করার উদ্যোগ নেই। এতে সাড়া দেয় পারখাজুরা ও হাকিমপুর গ্রামবাসী।

অন্যতম উদ্যোক্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সেতুটির ওপর দিয়ে ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইকসহ হালকা যান চলাচল করতে পারবে। প্লাস্টিকের ব্যারেল দিয়ে সেতুটি নির্মিত হওয়ায় ভারি যান এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

এদিকে বৃহত্তর ভাসমান সেতুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। সেতু দেখতে আসা চালুয়াহাটি ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ জানান, দেশের বৃহত্তর এ ভাসমান সেতুটি দেখতে খুবই দৃষ্টিনন্দন। তাই সপরিবারে দেখতে এসেছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল হোসেন জানান, পারখাজুরা দ্বীপের মানুষ সকাল-বিকাল হাট-বাজারে আসতে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তেমনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিরও যেন শেষ নেই। তাই গ্রামবাসী নিজস্ব অর্থায়নে পারখাজুরা বাঁওড়ের ওপর প্লাস্টিকের ব্যারেল দিয়ে ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।

মশ্মিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, হাকিমপুর-পারখাজুরাবাসীর যাতায়াতের জন্য বাঁওড়ের ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার ধরনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি কেউ আমলে নেয়নি। তাই গ্রামবাসীরা এ ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এই ভাসমান সেতু রক্ষায় তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ময়মনসিংহে ব্যবসায়ীকে কোপাল স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

১৮ জুলাই / ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

ট্রাক ও অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির আভাস

ট্রান্সকম গ্রুপে নিয়োগ, আবেদন ২২ জুলাই পর্যন্ত

সরকারের ৫ মাস পূর্তি / শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

মাইন বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ল দুটি তেলবাহী ট্যাংকার

বই পড়ে পুরস্কার পেল পৌনে তিন হাজার শিক্ষার্থী

১৮ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

শিক্ষার্থীরা কেউ অটোপাসের দাবিতে রাজপথে নামেনি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

১০

ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার যবিপ্রবি ছাত্রী

১১

নবাবগঞ্জে মহিলা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

১২

১৮ জুলাই: অভ্যুত্থানের প্রথম বিজয় এসেছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

১৩

বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ শনিবার

১৪

ঝিনাইদহে ওসির সামনে ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

১৫

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল বিশ্বের সবচেয়ে দামি

১৬

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার নতুন সভাপতি সাঈদ-সম্পাদক জসিম

১৭

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতি নয়: ডা. জাহিদ

১৮

ভাড়া বাসা থেকে নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

১৯

যমুনার পানি বৃদ্ধি: আমনের বীজতলা তলিয়ে বিপাকে কৃষক

২০
X