শিতাংশু ভৌমিক অংকুর
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫১ এএম
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রাণের মেলা

বসন্তের ছোঁয়ায় রঙের মেলা

বসন্তের ছোঁয়ায় রঙের মেলা

ঋতুরাজ বসন্ত দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে। আজ বুধবার উদযাপন হতে যাচ্ছে বসন্ত উৎসব। এর ছোঁয়া লেগেছে বইমেলায়ও। গতকাল মঙ্গলবার মাঘের শেষ দিন অমর একুশে বইমেলা ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বাংলা একাডেমি, টিএসসিসহ পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিল মানুষের ঢল। বইমেলার যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা গেছে হলুদ, নীল, বাসন্তী রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরিধান করা তরুণ-তরুণী। দেখে মনে হচ্ছিল পুরো চত্বরে বসেছে রঙের মেলা। মাঘের শেষ দিনে পাঠককে বাড়তি আনন্দ দিতে বাংলা একাডেমিও আয়োজন করেছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

গতকাল বইমেলার ১৩তম দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে কথা হয় ঢাবি শিক্ষার্থী শাহনাজ ইসলাম জেরিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ হল থেকে বের হয়ে এসেছি। আজ (গতকাল) টিউশনি ছিল না। সকালে ক্লাস শেষ করে দুপুরে হল থেকে বের হয়ে মেলায় এলাম। মেলায় আজ বিপুলসংখ্যক মানুষ এসেছে।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রায়হান হামজা বলেন, মেলায় বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। পছন্দের বই কিনব। আগামীকাল (আজ বুধবার) বসন্তবরণ। এটা বাঙালির অন্যরকম একটা দিন। বসন্তবরণ উৎসবের জন্যও কিছু কেনাকাটা করব।

শুধু পাঠকের মধ্যেই না, বসন্তের এ আগমনী ছোঁয়া লেগেছিল স্টলগুলোতেও। বিক্রয়কর্মীরাও সেজে এসেছিলেন বসন্তের রঙে। প্রতিটি স্টলে ছিল বইপ্রেমীর ভিড়। পছন্দের লেখকের বইটি কিনতে দেখা গেছে। বিক্রয়কর্মী ও প্রকাশকরা জানান, গতকাল দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও আগের দিন অর্থাৎ গত সোমবার মেলায় দর্শনার্থী কম ছিল। তাই এদিন আশানুরূপ বিক্রি হয়নি।

আদর্শ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী নাজনীন আরা প্রীতি বলেন, আজ (গতকাল) মাঘের শেষ দিন। আগামীকাল (আজ) ১ ফাল্গুন। এসব কারণে মেলায় প্রচুর দর্শনার্থী থাকলেও নেই ক্রেতা। এ বিষয়ে বাতিঘর প্রকাশনার স্টল ব্যবস্থাপক আতিক বলেন, আজ আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। তবে মেলায় প্রচুর দর্শনার্থী ছিল।

গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ১১০টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপন্যাস ২৪টি, কবিতার বই ২৯টি, গল্প ১১টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি জাহিদ হায়দার, হেনরী স্বপন, শিহাব শাহরিয়ার, মতিন রায়হান, জুনান নাশিত, টিমোদী খান রিনো, সাকিরা পারভীন এবং মু. আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিমা খান বকুল, চন্দ্রিমা দেয়া। এ ছাড়া ছিল তুনাজ্জিনা রহমত মৌরীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গীতিকবি আনিসুল হক স্মৃতি পরিষদ’, ‘হামিবা সাংস্কৃতিক একাডেমি’ এবং সৌন্দর্য প্রিয়দর্শিনীর পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন প্রিয়দর্শিনীর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মো. হারুনুর রশিদ, মিতা চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী সরকার, আফরোজা খান মিতা, শহীদ করীর পলাশ, মো. মজিবুর রহমান, ফারহানা ফেরদৌসী তানিয়া, মাহবুবা রহমান এবং এম এম উম্মে রুমা। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন পুলিন চক্রবর্তী (তবলা), রবিন চৌধুরী (কিবোর্ড), মো. মামুনুর রশিদ (বাঁশি), ফিরোজ খান (সেতার)।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শৌচাগারে সিগারেট ধরানোর সময় বিস্ফোরণ, কলেজছাত্রের মৃত্যু

ভেড়ামারায় সাপের কামড়ে স্বামীর মৃত্যুতে পাগলপ্রায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

থানায় সেবা নিতে এসে কেউ যেন কষ্ট না পায়: আইজিপি

মাইক্রোবাসে আগুন, প্রাণে বাঁচলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সংবাদকর্মীরা

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ময়মনসিংহে আবারও ট্রেন লাইনচ্যুত

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

২৫টি এয়ারক্রাফট দিয়ে ২০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

প্রথম ফিউচারনেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬ 

শিক্ষক সংকটে মান হারাচ্ছে তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়

সুরে সুরে মোহাম্মদ রফিকে স্মরণ

১০

আমরা যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি এবং কখনোই জানাব না: ইরানের স্পিকার

১১

সকালের মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১২

যারা মনে করেন ইরানের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয়, তাদের এমন অবস্থানে হতাশ ভান্স

১৩

বন্দর আব্বাসে নতুন করে মার্কিন হামলা, দাবি সেন্টকমের

১৪

ফাইনালে কি নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা, ফিফার নিয়ম কী বলছে?

১৫

বদিউর রহমান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমান

১৬

মৌলভীবাজারে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত

১৭

বান্দরবানে রথযাত্রা উদযাপন

১৮

নবাবগঞ্জে রথযাত্রা উদযাপিত

১৯

নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

২০
X