স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান থাকার পরও বিলকিস বেগম নামে আরেক নারীকে বিয়ে করে মিজানুর রহমান সুমন। রাখে একটি ভাড়া বাসায়। কিন্তু বিভিন্ন প্রয়োজনে কয়েক মাস ধরে দ্বিতীয় স্ত্রীর আর্থিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে সুমন। সে অনুযায়ী গত ১৯ মে গাজীপুরের কালীগঞ্জে পূর্বাচল ২৪ নম্বর সেক্টর এলাকায় ঘুরতে নিয়ে তার শরীরে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। বিলকিসের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মে মারা যান বিলকিস। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোসতাক আহমেদ। তিনি জানান, স্ত্রীকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় উবার চালক মিজানুর রহমান সুমনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, বিলকিস বিয়ের আগে জানতেন না সুমনের স্ত্রী-সন্তান আছে। বিয়ের পর তুরাগের রানাভোলার আগের স্ত্রীর বাসা থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নয়াপাড়া এলাকায় আরেকটি বাসা ভাড়া নিয়ে বিলকিসকে রাখেন। সম্প্রতি আর্থিক অনটন নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিলকিস তাকে সংসার খরচ আরও বাড়াতে বলেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এ কারণে সুমন পরিকল্পনা করে বিলকিসকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার। কয়েক দফা ঘুরতে গিয়েও ব্যর্থ হয় সুমন। গত ১৯ মে দুপুরের পর সুমন তার স্ত্রী বিলকিসকে নিয়ে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে যায়। পথে তারা চা পান করে। ঘোরাঘুরির মধ্যে জায়গা ও সুযোগ খুঁজতে থাকে কোথায় হত্যা করা হবে। একপর্যায়ে বিকেল ৪টার পর পূর্বাচলের ২৪ নম্বর সেক্টরে একটি ঝোপে নিয়ে গাড়িটি থামায়। গাড়ি থেকে নামার পর ব্যাকডালা থেকে একটি পাইপে পেট্রোল ভরে সুমন। ওই পেট্রোল বিলকিসের গায়ে ছুড়ে সঙ্গে সঙ্গে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাঁচার আকুতি জানিয়ে চিৎকার করতে থাকেন বিলকিস। তবে জায়গা এতটাই নির্জন যে, তার চিৎকার কেউ শুনতে পাচ্ছিল না। ওই অবস্থায় বিলকিসকে ফেলে গাড়ি নিয়ে দ্রুত চলে যায় সুমন।
লে. কর্নেল মোসতাক আহমেদ বলেন, বিলকিসের ডাক-চিৎকারে একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাকে একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকাল ৯টায় তিনি মারা যান।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার পর থেকেই সুমন আত্মগোপনে চলে যায়। র্যাব-১ ছায়াতদন্ত শুরু এবং আসামি গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। মঙ্গলবার বিকেলে র্যাব জানতে পারে সুমন গাজীপুরের বাসন এলাকায় আত্মগোপনে আছে। পরে বাসনের নাওজোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।