দয়াল দত্ত
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দয়াল দত্তের ৩টি কবিতা

কবি দয়াল দত্ত। ছবি : সংগৃহীত
কবি দয়াল দত্ত। ছবি : সংগৃহীত

রক্তাক্ত মঞ্চ

মার্চের সন্ধ্যা নেমেছিল নরম আলোর মতো, গানের সুরে ভেসেছিল মাটির গভীর ব্যথা— হঠাৎ আকাশ ফেটে আগুন ঝরে পড়ল, মানুষের চিৎকার ছাপিয়ে নীরব হলো ব্যথা।

মঞ্চের ওপর ছড়িয়ে রইলো ছিন্ন স্বপ্ন, কাঁপতে থাকা বাতাস বললো— ‘এ কেমন উৎসব?’ হাসির ভেতর লুকিয়ে ছিল মৃত্যু, ফুলের মালায় গন্ধ ছিল রক্তের।

মায়ের কোলে ফিরল না যে সন্তান, তার বইখানা খোলা রইল টেবিলের কোণে। কারও সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল ধোঁয়ায়, কারও কণ্ঠস্বর থেমে গেল চিরতরে।

তবু জানো— রক্তে ভেজা সেই মাটি আজও গান গায়, কারণ স্বপ্নকে বোমা মারে না, সত্যকে আগুন পোড়ায় না।

যারা চলে গেছে, তাদের নাম লেখা আছে বাতাসে— প্রতিটি সুরে, প্রতিটি প্রতিবাদে, প্রতিটি নতুন সূর্যের আলোয়।

আজও যখন মার্চ আসে, মাটির ভেতর থেকে শোনা যায় এক ডাক— ‘আমরা হারাইনি, আমরা রয়ে গেছি তোমাদের সাহসে।’

মা

মা আমার জীবনের প্রথম আলো। পৃথিবীর রঙ, মানুষের মায়া, ভালো-মন্দের পার্থক্য— সবকিছু প্রথম শিখেছি তার কাছেই। ছোটবেলায় মায়ের হাতের আঙুল ধরে যখন হাঁটতে শিখেছিলাম, তখন বুঝিনি সেই হাতের ভরসাটাই একদিন আমার পুরো পৃথিবী হয়ে উঠবে।

মা শিখিয়েছেন শিষ্টাচার, শিখিয়েছেন মানুষের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা। ভুল করলে কখনো বকেছেন, আবার পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছেন। তার চোখে রাগের থেকেও বেশি ছিল দুশ্চিন্তা, যেনো আমি কোনো কষ্ট না পাই।

মায়েরা অদ্ভুত রকমের মানুষ— নিজের কষ্টগুলো তারা লুকিয়ে রাখে। রাতের পর রাত জেগে সন্তানের জ্বর দেখে, নিজের ক্ষুধা ভুলে সন্তানের পেট ভরায়, নিজের স্বপ্নগুলো চুপচাপ ত্যাগ করে সন্তানের স্বপ্নপূরণ করতে চায়।

মায়ের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, গভীর আর অনন্ত। জীবনের শেষ শক্তিটুকু থাকলেও মা সন্তানের জন্য দিয়ে যান। সন্তানের মুখে একটুখানি হাসি দেখলেই যেন তার সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।

এই পৃথিবীতে অনেক সম্পর্ক আছে, অনেক ভালোবাসা আছে— কিন্তু মায়ের মায়া, মায়ের মমতা আর মায়ের ত্যাগের মতো গভীর কিছু নেই।

মা আছেন বলেই পৃথিবীটা এত আপন, এত উষ্ণ, এত ভালোবাসায় ভরা।

অমর সেই আহ্বান

একটি ফুল থেকে আজকের শীতল ছায়া, প্রিয় বাংলাদেশ— স্বাধীন সার্বভৌম মায়া। নিভৃত আকাশে উঠেছিল এক বজ্রকণ্ঠের ডাক, কাঁপিয়ে দিয়েছিল ঘুমিয়ে থাকা বাংলার প্রতিটি প্রাণ একসাথে এক পাক।

একটি ভাষণের আবেদনে কী অপূর্ব সাড়া, মাঠে-ঘাটে জেগে উঠেছিল মুক্তির অগ্নিধারা। শত বছরের বঞ্চনা ভেঙে জেগে উঠল মন, স্বাধীনতার স্বপ্নে জ্বলে উঠল সমগ্র ভূখণ্ড।

রক্তে লেখা পথ, অশ্রুতে ভেজা দিন, তবু মাথা নত নয়—এই ছিল জাতির ঋণ। সবুজের বুকে লাল সূর্যের জাগরণ, শহীদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার ঘোষণা।

আজও সেই আহ্বান বাতাসে বাজে নিরন্তর, সাহস শেখায়, জাগায় প্রাণে অগ্নিঝর। প্রিয় বাংলাদেশ, তোমার ইতিহাস দীপ্তিমান— এক বজ্রকণ্ঠের ডাকে জেগেছিল সমগ্র বাঙালিয়ান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাবে ইসরায়েল : ট্রাম্প

যশোরে আ.লীগ-যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার পদত্যাগ

নিখোঁজের ৪ দিন পর প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

ক্যানসার শনাক্তে দেশে প্রথম রোবটিক প্রোস্টেট বায়োপসি হলো স্কয়ারে

আমার কথা বলে তাহেরী হুজুর আলোচনায় থাকতে চান : সামান্তা

অভিষেক ম্যাচেই ৪৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ক্রিকেটার 

হার্ট ভালো রাখতে প্রতিদিন খাবেন যে পাঁচ খাবার

৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কেনার পর জানতে পারলেন ভবনটিই ৩২ তলা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

১০

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

১১

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

১২

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

১৩

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

১৪

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

১৫

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

১৬

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

১৭

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

১৮

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১৯

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

২০
X