কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ছেলে বুয়েট শিক্ষক ও যুগ্মসচিব, বৃদ্ধা মায়ের মরদেহে পচন ধরলেও খোঁজ নেয়নি কেউ

এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। ছবি : সংগৃহীত
এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ এবং পারিবারিক দায়িত্বহীনতা নিয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ওই বাসায় যায়। পরে বাসার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের ধারণা, নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে। এ সময় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পচনজনিত ক্ষয় দেখা যায়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান বশির জানান, নুরজাহান বেগম ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে মেয়েটি আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। বৃদ্ধা দীর্ঘ সময় সাড়া না দেওয়ায় একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন নার্সকে ডাকা হয়। পরে নার্স ওই কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে বাসার কক্ষটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো ও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায়। সেখানে পরিচর্যার অভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়।

ওসি মো. হাসান বশির আরও জানান, নিহত নুরজাহান বেগমের পরিবারে দুই ছেলে রয়েছেন। তাদের একজন সরকারি যুগ্মসচিব এবং অন্যজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তারা আলাদা বাসায় থাকেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্বজনদের দায়িত্ব ও বৃদ্ধা নারীর দীর্ঘদিনের একাকিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এমন একটি ঘটনায় উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ সন্তানদের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয় যুবক আরিফকে

বিশ্লেষণ / লেবাননকে পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী / ‘বিরোধীদলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা’

টিজারে বিজয় সেতুপতির হুঁশিয়ারি

সাবেক এমপির মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশি বেনাপোল দিয়ে ফেরত

‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন ডা. শফিকুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হলে লেবাননেও সংঘাত থামতে পারে

শাহবাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বিড়াল, ২৫ মিনিট বন্ধ ছিল মেট্রোরেল

নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর

১০

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

১১

২০২৫ সালে ৫৬% বেসামরিক মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েল

১২

বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৩

কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি চক্রের হোতা বাংলাদেশিরা, গ্রেপ্তার ৫

১৪

পতাকা বৈঠক ব্যর্থ : শিশুসহ ১২ জন এখনো শূন্যরেখায়

১৫

যমুনা চরের পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষা বিস্তারে স্থাপিত হচ্ছে রেসিডিন্সিয়াল কলেজ 

১৬

শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যুবদলের শ্রদ্ধা

১৭

খেলা দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল যুবকের

১৮

নাঈমের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চায় কোয়াব

১৯

নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিসিবির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

২০
X