হত্যার পর শ্বশুরের কাটা মাথা নিজের ব্যাগে বহন করে নিয়ে যান পুত্রবধূ। পরে সেটি ফেলে দেন সমুদ্রসৈকতে। আজ মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে এ কথা বলেন আনার কলি (২০) নামের এক নারী।
রিমান্ড শেষে পুত্রবধূ আনারকলি আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, শ্বশুরকে টুকরো টুকরো করার লাগেজে ঢুকিয়ে খণ্ডিত অংশ ফেলে দেওয়া হয়। স্কুলব্যাগে ছিল খণ্ডিত মাথা। সেটা নিয়ে আনারকলি ও তার স্বামী শফিকুর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যান। মাথাসহ ব্যাগ পাথরের ব্লকের ভেতরে ফেলে দিতে চাইলে আনারকলি ব্যাগ রেখে দেন। এরপর সফিকুর শুধু খণ্ডিত মাথাটি ফেলে দেন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর পতেঙ্গা বোট ক্লাব এলাকায় ১২ নম্বর গেইটে একটি ট্রলিব্যাগ পাওয়া যায়। কফি রঙের ট্রলিব্যাগে ছিল মানব শরীরের ২ হাত, ২ পা, কনুই থেকে কাঁধ এবং হাঁটু থেকে উরু পর্যন্ত অংশ। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে।
এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর আকমল আলী সড়কের খালপাড়ে একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় টেপে মোড়ানো শরীরের আরেকটি খণ্ড উদ্ধার করে পিবিআই। আঙ্গুলের ছাপ ও নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় হাসানের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম (৫০) ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে (৩২)। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বাবাকে খুনের বর্ণনা দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ বছর নিরুদ্দেশ থাকার পর হঠাৎ পরিবারের কাছে ফিরে আসেন মো. হাসান। কিন্তু সম্পত্তি নিয়ে বাবা ও ছেলেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই স্ত্রী, ছেলেরা মিলে হাসানকে খুন করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, আনার কলি শ্বশুরের কাটা মাথাটি ব্যাগে ভরে সমুদ্র সৈকতে ফেলে দেওয়ার কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন। মাথার খোঁজে আনারকলিকে নিয়ে টানা দুই দিন তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সৈকতে পাথরের ব্লকের ফাঁকে ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। হয়তো জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে গেছে।
এদিকে আনার কলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, স্বামীকে নিয়ে আকমল আলী রোডের ভাড়া বাসায় থাকতেন আনারকলি। তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুর মোস্তাফিজুর। সেখানে বেড়াতে এসেছিলেন। সেখানেই ২০ সেপ্টেম্বর তার শ্বশুর খুন হন। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর আনার কলি একটি স্কুল ব্যাগের ভেতর করে শ্বশুরের কাটা মাথাটি পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী শফিকুর। এরপর শফিকুর মাথাসহ ব্যাগটি সৈকতের পুলিশ বক্সের সামনের পাথরের বোল্ডারের ফাঁকে ফেলে দেন। এ ঘটনায় সবকিছু জেনেও চুপ ছিলেন তিনি। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। সংসার ভেঙে যাবে, ভেবেই এমন অপরাধের সহযোগী হয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন