কক্সবাজারে জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা জাসদ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাদের হামলায় এক ছাত্রলীগ নেতা গুরুতর আহত হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আহত ওই নেতাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজার লালদীঘি পাড়স্থ জেলা আ.লীগ ও জেলা জাসদ কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আশিকুর রহমান বলেন, সন্ধ্যায় গুরুতর আহত এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম রাজিবুল ইসলাম মোস্তাক। সে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নজির আহম্মদের ছেলে ও কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক।
এ ঘটনার পরপরই কক্সবাজার শহরে জেলা আ.লীগের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কক্সবাজার শহরে আতংক বিরাজ করছে।
আহত রাজিব জানান, বিকেল থেকে আমরা জেলা আ.লীগ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলাম। সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ সশস্ত্র একদল যুবক আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমি গুরুতর আহত হলে অন্যান্যরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তথ্য মতে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের ব্যানারে একটি মিছিল কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল। এসময় বিনা উসকানিতে মিছিলটি লালদীঘি পাড়স্থ কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় তাদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাজিবুল ইসলাম মোস্তাক। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ বাহদুর বলেন, কোটা বিরোধী মিছিলের নামে ২-৩ শতাধিক যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিলসহকারে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালায়। প্রশ্ন হচ্ছে তারা যদি ছাত্র হয়ে থাকে তবে তাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি কেন? কেন তারা আ.লীগের অফিসে হামলা করবে? আমি মনে করি এরা কেউ ছাত্র নয়। এরা একদল সন্ত্রাসী। কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্রদের আচরণ এমন হতে পারে না।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্মআহবায়ক ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমরা শুরু থেকে বলছি কোটা বিরোধী এ আন্দোলন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়, জামায়াত-বিএনপি আন্দোলন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এই ধরনের সহিংস হতে পারে না।
জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, বিএনপি জামায়াতের ক্যাডার বাহিনী ছাড়া এ ধরনের হামলা হতে পারে না। যারা জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার মতো যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তার মাশুল দিতে হবে হামলাকারীদের। আমরা চুপ আছি বলে দুর্বল মনে করার কোনো কারণ নেই। আ.লীগ জানে এর জবাব কীভাবে দিতে হয়।
তিনি বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাজিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে মূলত তারা হামলা করেছিল। ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশে থাকা জেলা জাসদের অফিসও ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা।
কক্সবাজার পৌরসভা শাখা জাসদের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন মাসু বলেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে শিবির ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় আমরা তাৎক্ষণিক মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখন থানায় মামলা করবো।
কক্সবাজার মডেল থানার ওসি মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে রয়েছে। আমরা অপরাধীদের ধরতে কাজ করছি।
মন্তব্য করুন