টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় হঠাৎ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে চকরিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই।
জানা যায়, চকরিয়া উপজেলায় নদী তীরবর্তী এলাকার ৫টি ইউনিয়নের ২৫-৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এদিকে উপজেলার সদরের সঙ্গে কিছু কিছু এলাকার রাস্তাঘাটের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় পড়েছে বলে স্থানীয় লোকজন ও চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আগামী তিন দিন আরও ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তিন দিন ধরে চকরিয়ায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিলের লিয়াকাটা, আলিপাকাটা, হাসিমারকাটা, উনাছড়ি, ভাইন্নাচরা, ময়ুরেরচক, মানিকপুর সুরাজপুর, কাকারা, বরইতলীর পঁহরচাঁদা, ডেংগাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকেছে।
ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন এলাকাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, ফসলিজমিসহ বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান ও আজিমুল হক আজিম, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা বলেন, চকরিয়ার উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা লক্ষানচর, কৈয়ারবিল বরইতলিসহ ৫টি ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বরইতলির ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান জানান, গোবিন্দপুর পঁহরচাঁদা, ডেংগাকাটা এলাকার পানি ঢুকেছে। এতে চার গ্রামের ১০-১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এদিকে চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালাম ও চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল কালবেলাকে বলেন, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চল এলাকায় ঢলে পানি ঢুকেছে। এতে অসংখ্য পরিবার পানির নিচে রয়েছে।
সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, পাঁচ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন