আমিরুল ইসলাম, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০২:১১ পিএম
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০২:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাথায় ছররা গুলির যন্ত্রণা, ঝাঁজরা মুসার পিঠ

কামারখন্দে বাড়িতে মুসার ক্ষতবিক্ষত পিঠ দেখাচ্ছেন বাবা গোলাম আযম।
কামারখন্দে বাড়িতে মুসার ক্ষতবিক্ষত পিঠ দেখাচ্ছেন বাবা গোলাম আযম।

পুরো শরীরে ছররা গুলির আঘাতের চিহ্ন। মাথা থেকে পা পর্যন্ত গুলির চিহ্ন ক্ষত হয়ে আছে মুসা আহমেদের শরীরে। ঘুমাতে গেলেই ব্যথায় ছটফট করে ওঠেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের ছররা গুলি মাথায় নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের মুসা আহমেদ (২০)।

আহত মুসার পরিবারের দাবি, উন্নত চিকিৎসা পেলে মুসা আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। পুরো শরীরে প্রায় ২০০ ছররা গুলি লেগেছে। ফলে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণায় ছটফট করে।

মুসা আহমেদ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি গোলাম আযমের ছেলে। তিনি গাজীপুরের চান্দুরা মোড়ে একটি গার্মেন্টসের ইমাম ছিলেন।

আহত মুসা বলেন, আমি গাজীপুরের চান্দুরা মোড়ে একটি গার্মেন্টসে ইমামতি করি। সেখানে আন্দোলন চলছিল। গত ৪ আগস্ট সেখানে এমন পরিস্থিতি ছিল যা বলার মতো না। আমিও আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ অন্যদিক দিয়ে না এসে সামনাসামনি এসে আমাদের কাছে হাজির হয়।

তিনি বলেন, আমরা মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগোই। হঠাৎ পুলিশ পেছনে থেকে গুলি করতে থাকে। এ অবস্থায় আমরা কোনো দিকেই যেতে পারিনি। চারদিকে ঘেরাও করে গুলি করেছে। আমার পা থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত ছররা গুলি লেগেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মুসা আরও বলেন, এরপর আমার পরিবার আমাকে নিয়ে এসে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এখানেই আমি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। আমি হাত নাড়াতে পারি না, মাথায় গুলি লাগায় রাতে ঘুমাতে পারি না। পায়েও গুলি লেগেছে। হাঁটতেও পারছি না। বেশি গুলি লেগেছে আমার পিঠে আর মাথায়। চিকিৎসকরা বলেছেন, মাথায় যে গুলি লেগেছে সেগুলো আগে বের করতে হবে। অপারেশনে অনেক টাকা লাগবে। আর্থিক অবস্থা ভালো না আমার পরিবারের। আমি চাই সরকার ও সমন্বয়করা যেন চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

মুসার বাবা গোলাম আযম বলেন, আমার ছেলের এই অবস্থা দেখে আমি সবসময় চিন্তায় থাকি। তার মা আট বছর আগে মারা গেছে। আমার ছেলেটা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। এ আন্দোলন দেখে সহ্য করতে না পেরে আমার ছেলে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলে সে আহত হয়।

তিনি বলেন, আহত হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। তার যে চিকিৎসা দরকার আমার পক্ষে সম্ভব না। আর্থিক অবস্থা আমার ভালো না। আমি দিনমজুরি কাজ করে খাই। আমি নিজেও অসুস্থ। নতুন সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার ছেলের চিকিৎসার যেন একটা ব্যবস্থা করে দেয়। এ ছাড়া সুস্থ হলে ভালো কাজ ঠিক করে বাকি জীবনটা ভালো কাটবে।

কামারখন্দ উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম বলেন, মুসা বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকেই আমি নিয়মিত মুসার খোঁজখবর নিচ্ছি। আমি অন্তর্বর্তী সরকার এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি তারা যেন মুসার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং সে সুস্থ হওয়ার পর যেন তাকে একটা ভালো কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন সুলতানা কালবেলাকে বলেন, আমি ইতোমধ্যেই জেনেছি ছেলেটা আন্দোলনের সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আপনারাও এগিয়ে এসেছেন, আশা করি জনপ্রতিনিধিরাও তার পাশে দাঁড়াবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার- আমরা পাশে থাকব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নজরুল ইসলামের সতর্কতা

বগুড়ার জিয়াবাড়ি সাজছে নতুন রূপে

‘মুস্তাফিজের জায়গায় লিটন বা সৌম্য হলে কি একই সিদ্ধান্ত নিত বিসিসিআই?’

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিত : মির্জা ফখরুল

প্রিয় মাতৃভূমির বদনখানি মলিন হতে দেব না : শিক্ষা সচিব

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক চলছে

গণঅধিকার থেকে নুরুকে বহিষ্কারের তথ্যটি ভুয়া

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন

পতিত স্বৈরাচার নির্বাচন বানচাল করতে চায় : সালাহউদ্দিন আহমদ

১০

হ্যাটট্রিক করে বিপিএলে মৃত্যুঞ্জয়ের অনন্য কীর্তি

১১

রেকর্ড দরপতনে ইরানের রিয়াল, ডলার ছাড়াল ১৪ লাখ ৭০ হাজার

১২

বিপিএল ছাড়ার হুমকি ঢাকা ক্যাপিটালসের

১৩

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই : জামায়াত

১৪

প্রিমিয়ার লিগ জয়ের জন্য শক্তি বাড়াল ম্যানসিটি

১৫

যুদ্ধবিমান নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান আলোচনা, নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভারত

১৬

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার / কেন বাংলাদেশে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চাইছে পাকিস্তান

১৭

খালেদা জিয়া জনগণের মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন : কবীর ভূঁইয়া

১৮

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় জেডআরএফের দোয়া মাহফিল

১৯

মাঠেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন ক্রিকেটার

২০
X