নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মোবাইলে প্রেম, পালিয়ে এসে দেখেন প্রেমিক দৃষ্টিহীন, অতঃপর...

হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে পালিয়ে আসা ওই নারীর বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। ছবি : কালবেলা
হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে পালিয়ে আসা ওই নারীর বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। ছবি : কালবেলা

মোবাইলে পরিচয়ের পর এক বছর ধরে চলে কথোপকথন। একপর্যায়ে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। সবশেষ প্রেমের টানে দুই সন্তানের জননী এসে হাজির হন প্রেমিকের বাড়িতে। এসে দেখেন প্রেমিক সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। অতঃপর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রেমিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. রাসেল (২৭) হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের আর প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি (২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রাসেলের বড় ভাই রিকশাচালক মো. জামসেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আগে কিছুই জানতাম না। সুমি হঠাৎ আমাদের বাড়িতে এসে হাজির হয়। রাসেল দৃষ্টিহীন, তার সংসার চালানোর সক্ষমতা নেই। এসব বলার পরও রাসেলকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সুমি। পরে দুজনকে নিয়ে আসা হয় হাতিয়া থানায়। থানা থেকে সুমির বাড়িতে যোগাযোগ করা হলেও তার বাবা-মা সাড়া দেননি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুজনের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।’

প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি কালবেলাকে বলেন, রাসেলের এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আমাদের দুজনের পরিচয় হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হতো। এতে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। আমার আগের সংসারে দুটি সন্তান আছে। আগের স্বামী ট্রাকচালক ছিলেন। তার সঙ্গে দুই বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এসব জেনেও রাসেল তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন।

সুমি আরও বলেন, রাসেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এটা আমি আগে জানতাম না। তার চোখের সমস্যা আছে বলে আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু একেবারেই দৃষ্টিহীন, এটা বলেননি। এখন যেহেতু চলে এসেছি, তাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করেছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

এদিকে বিয়ের খবরে দ্বীপ এলাকার লোকজন রাসেলদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার সারা দিন এ নিয়ে ছিল বেশ আলোচনা।

জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, রাসেলের ভাই থানায় এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে দুজনকে থানায় আনা হয়। সুমির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। যেহেতু তারা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজেদের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খামেনির জানাজা বয়কট করতে বিভিন্ন দেশকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন 

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে হারল কেপ ভার্দে

মেসির কর্নারে রোমেরোর হেড, অতিরিক্ত সময়ে আবারও এগিয়ে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়ে আবারও সমতায় কেপ ভার্দে

লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে আর্জেন্টিনা

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

পৃথিবীকে চমকে দিয়ে সমতায় ফিরল কেপ ভার্দে

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে নতুন যে রেকর্ড গড়লেন মেসি

১০

মেসির গোলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

১১

প্রথমবার নকআউটে নেমেই বাজিমাত, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল মিসর

১২

দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এমপি তাহসিনা রুশদীর

১৩

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

১৪

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে প্রথমবার শেষ ষোলোতে মিসর

১৫

আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগেই বিশ্বকাপ জয়ের ঘোষণা কেপ ভার্দের

১৬

চট্টগ্রামে অসহায় ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

১৭

বদলে গেল ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের সময়!

১৮

মিসরের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া

১৯

আলি খামেনির জানাজায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান 

২০
X