বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মোবাইলে প্রেম, পালিয়ে এসে দেখেন প্রেমিক দৃষ্টিহীন, অতঃপর...

হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে পালিয়ে আসা ওই নারীর বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। ছবি : কালবেলা
হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে পালিয়ে আসা ওই নারীর বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। ছবি : কালবেলা

মোবাইলে পরিচয়ের পর এক বছর ধরে চলে কথোপকথন। একপর্যায়ে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। সবশেষ প্রেমের টানে দুই সন্তানের জননী এসে হাজির হন প্রেমিকের বাড়িতে। এসে দেখেন প্রেমিক সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। অতঃপর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রেমিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. রাসেল (২৭) হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের আর প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি (২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রাসেলের বড় ভাই রিকশাচালক মো. জামসেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আগে কিছুই জানতাম না। সুমি হঠাৎ আমাদের বাড়িতে এসে হাজির হয়। রাসেল দৃষ্টিহীন, তার সংসার চালানোর সক্ষমতা নেই। এসব বলার পরও রাসেলকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সুমি। পরে দুজনকে নিয়ে আসা হয় হাতিয়া থানায়। থানা থেকে সুমির বাড়িতে যোগাযোগ করা হলেও তার বাবা-মা সাড়া দেননি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুজনের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।’

প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি কালবেলাকে বলেন, রাসেলের এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আমাদের দুজনের পরিচয় হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হতো। এতে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। আমার আগের সংসারে দুটি সন্তান আছে। আগের স্বামী ট্রাকচালক ছিলেন। তার সঙ্গে দুই বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এসব জেনেও রাসেল তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন।

সুমি আরও বলেন, রাসেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এটা আমি আগে জানতাম না। তার চোখের সমস্যা আছে বলে আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু একেবারেই দৃষ্টিহীন, এটা বলেননি। এখন যেহেতু চলে এসেছি, তাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করেছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

এদিকে বিয়ের খবরে দ্বীপ এলাকার লোকজন রাসেলদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার সারা দিন এ নিয়ে ছিল বেশ আলোচনা।

জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, রাসেলের ভাই থানায় এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে দুজনকে থানায় আনা হয়। সুমির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। যেহেতু তারা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজেদের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাগবিতণ্ডায় ব্রাজিল সমর্থকের নাক ফাটাল আর্জেন্টিনা সমর্থক

কোয়ার্টারে যে প্রতিপক্ষ পেল মেসির আর্জেন্টিনা

টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

জয়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্কালোনি, কথা শেষ না করেই চলে গেলেন

প্রথমার্ধের বিরতিতে গোলশূন্য কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড

পিছিয়ে থেকে ফিরে আসা সহজ ছিল না : মেসি

মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা, প্রশ্নের মুখে ভিএআর

রেফারি অন্যায় করেছেন, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট : জিকো

১০

এমনও রাতে মেসির চোখে কেন জল?

১১

কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের শুরুর একাদশ

১২

৯৬ বছরের ‘অবিশ্বাস্য’ রেকর্ড ছুঁলেন মেসি

১৩

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ দিল সরকার

১৪

মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা, মেসিদের পরের ম্যাচ কবে, প্রতিপক্ষ কে?

১৫

‎কক্সবাজার জেলারও বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত 

১৬

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার, মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

১৭

মেসির জাদুতে সমতায় আর্জেন্টিনা

১৮

বিশ্বকাপে টানা দুই পেনাল্টি মিস, লজ্জার এই রেকর্ডে নাম শুধুই মেসির

১৯

আর্জেন্টিনার জালে আরও এক গোল মিসরের

২০
X