রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মোবাইলে প্রেম, পালিয়ে এসে দেখেন প্রেমিক দৃষ্টিহীন, অতঃপর...

হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে পালিয়ে আসা ওই নারীর বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। ছবি : কালবেলা
হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে পালিয়ে আসা ওই নারীর বিয়ে পড়ানো হচ্ছে। ছবি : কালবেলা

মোবাইলে পরিচয়ের পর এক বছর ধরে চলে কথোপকথন। একপর্যায়ে তা গভীর প্রেমে রূপ নেয়। সবশেষ প্রেমের টানে দুই সন্তানের জননী এসে হাজির হন প্রেমিকের বাড়িতে। এসে দেখেন প্রেমিক সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। অতঃপর ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে দুজন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রেমিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. রাসেল (২৭) হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের আর প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি (২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রাসেলের বড় ভাই রিকশাচালক মো. জামসেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আগে কিছুই জানতাম না। সুমি হঠাৎ আমাদের বাড়িতে এসে হাজির হয়। রাসেল দৃষ্টিহীন, তার সংসার চালানোর সক্ষমতা নেই। এসব বলার পরও রাসেলকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সুমি। পরে দুজনকে নিয়ে আসা হয় হাতিয়া থানায়। থানা থেকে সুমির বাড়িতে যোগাযোগ করা হলেও তার বাবা-মা সাড়া দেননি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুজনের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।’

প্রেমিকা রেবা আক্তার সুমি কালবেলাকে বলেন, রাসেলের এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আমাদের দুজনের পরিচয় হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে কথা হতো। এতে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। আমার আগের সংসারে দুটি সন্তান আছে। আগের স্বামী ট্রাকচালক ছিলেন। তার সঙ্গে দুই বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এসব জেনেও রাসেল তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন।

সুমি আরও বলেন, রাসেল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এটা আমি আগে জানতাম না। তার চোখের সমস্যা আছে বলে আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু একেবারেই দৃষ্টিহীন, এটা বলেননি। এখন যেহেতু চলে এসেছি, তাই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করেছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

এদিকে বিয়ের খবরে দ্বীপ এলাকার লোকজন রাসেলদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় শুক্রবার সারা দিন এ নিয়ে ছিল বেশ আলোচনা।

জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, রাসেলের ভাই থানায় এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে দুজনকে থানায় আনা হয়। সুমির দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা কেউ আসেননি। যেহেতু তারা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজেদের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেপ ভার্দে যেতে কি বাংলাদেশিদের আগাম ভিসা লাগবে?

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না সরকার : বিজন কান্তি 

নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়ন কাজের সরকারি বরাদ্দ বিএনপি নেতার পকেটে!

সেমিনারে বক্তারা / সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য

এএফসি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বিমান, রানার্সআপ ইউএস-বাংলা

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফিরছে সরাসরি ফ্লাইট, রোববার প্রথম যাত্রা

জুলাই সনদের প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন জামায়াত আমির

হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ 

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব আরও গভীর করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

১০

ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে সুশাসন, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে জোর

১১

ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১২

পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত নেইমার : আনচেলত্তি

১৩

কুমিল্লা ও চাঁদপুরে আনসার-ভিডিপির কার্যক্রম পরিদর্শনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক

১৪

কমিউনিস্টবিরোধী বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সূচনা করলেন ট্রাম্প

১৫

সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ো হাওয়ার আভাস

১৬

ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, বিএনপি কর্মী আটক

১৭

নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ / বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় মাতিন হাসানের প্রথম স্থান অর্জন

১৮

রিয়াদে পরিত্যক্ত কক্ষে প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, লাশ দেশে আনতে স্বজনদের আকুতি

১৯

মুকসুদপুরে হ্যান্ডকাফ ও খেলনা পিস্তলসহ ভুয়া পুলিশ আটক

২০
X