মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫, ০২:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়েই বাজিমাত, জালে আটকা ৬১ মণ ইলিশ

আলীপুর মৎস্যবন্দরে নিলামের মাধ্যমে ইলিশ মাছগুলো বিক্রি করা হয়। ছবি : কালবেলা
আলীপুর মৎস্যবন্দরে নিলামের মাধ্যমে ইলিশ মাছগুলো বিক্রি করা হয়। ছবি : কালবেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলতেই ভাগ্য বদলে গেল জেলেদের। উঠে এলো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ যা বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৩ লাখ টাকায়। সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ৬১ মণ ইলিশ নিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মৎস্য বন্দর আলীপুর আসে মাছ ধরা ট্রলারটি।

এসব মাছ বিএফডিসি মার্কেটের মেসার্স খান ফিস নামে একটি আড়তে নিয়ে আসলে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয় ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৪ টাকায়। এ সময় পাইকারদের হাঁকডাকে সরব হয়ে ওঠে মৎস্যবন্দর। জানা গেছে, মাছগুলো কুয়াকাটা থেকে পূর্ব-দক্ষিণ কোণে আনুমানিক ১৭০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের গভীরে ধরা পড়ে।

জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, এফবি আল্লাহর দোয়া নামের একটি মাছ ধরা গত বৃহস্পতিবার আলীপুর ঘাট থেকে ২২ জন জেলে নিয়ে সমুদ্রে যাত্রা করেন। গত রোববার সমুদ্রে জাল ফেলতেই মাছগুলো ধরা পড়েছে। মাছগুলো আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ৪টি সাইজ আকারে আলাদা করে ডাকের মাধ্যমে খান ফিসে বিক্রি করা হয়।

খান ফিসের ম্যানেজার সাগর বলেন, ৯০০ থেকে ১০০০ গ্রাম ওজনের মাছ মণপ্রতি ৭৩ হাজার টাকা যার প্রতি কেজি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৩০ টাকা, ৬০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছ প্রতি মণ ৫৮ হাজার টাকা, ৪০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি মণ মাছ ৪৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৪ টাকা।

ট্রলারের মাঝি আবু সালে বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়া অনেকটা লোকসানে ছিলাম। দীর্ঘ এক মাস পরে ভালো পরিমাণ মাছ পেয়েছি। আলিপুর বন্দরের খান ফিসে ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গত রোববারের চেয়ে সোমবার দাম কিছুটা কম।

মেসার্স খান ফিসের স্বত্বাধিকারী মো. রহিম খান বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা বেশ বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকদিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে তেমন মাছে দেখা পায়নি বন্দরের জেলেরা। বর্তমানে লম্বা জালে বেশ ভালো পরিমাণ মাছ ধরা পড়ছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে জেলেরা বেশ ভালো পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন। তবে মাছগুলো গভীর সমুদ্রে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। জালের প্রশস্ততা বাড়ালে বড় সাইজের বেশি মাছ ধরা পড়বে। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে বেশ ভালো পরিমাণ মাছের লক্ষ করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বন্দরের জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ পাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আরাও এক আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

গভীর রাতে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন!

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য : দুঃখ প্রকাশ সেই জামায়াত নেতার

আর্সেনালকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জমিয়ে তুলল ম্যানইউ

তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের ফোনালাপ

ইয়ামালের অসাধারণ গোলে আবারও লা লিগার শীর্ষে বার্সা

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি তার ভাইয়ের

কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসুর সর্বমিত্র

বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে ফোন করে হুমকি

১০

বিএনপির জনসভার ১৮টি মাইক, ৫ কয়েল তার চুরি

১১

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতি : রিজভী

১২

সিরাজগঞ্জে বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

১৩

তারেক রহমানই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন :  সালাম

১৪

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢামেকে শোক বই, উদ্বোধন করলেন ড্যাব সভাপতি 

১৫

শাকিবের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ‘গোপন’ খবর ফাঁস করলেন অমিত হাসান

১৬

ইসিকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ ভোট গণনা নিশ্চিত করতে হবে : রবিউল

১৭

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরালেন ডাকসুর সর্বমিত্র

১৮

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১৯

তারেক রহমানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : মঈন খান

২০
X