খুলনার কয়রায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং করেছেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির (সিপিপি) উপ-পরিচালক গোলাম কিবরিয়া। এ সময় তাকে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। পরে মুচলেকা দিয়ে মুক্ত হন তিনি।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে কয়রা ইউনিয়নে সিপিপির সভার আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, সিপিপি খুলনার উপ-পরিচালক গোলাম কিবরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে ছুটির দিন শুক্রবার সকালে কয়রা ইউনিয়নের সিপিপির সভার আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের আমলে করা ওই কমিটিতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন। এমনকি অনেকেই এলাকার বাইরে থাকায় স্থানীয়রা বিষয়টি পুনর্গঠন করার জন্য বার বার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সে বিষয়ে কর্ণপাত না করে উপ-পরিচালক গোপনে সভার আয়োজন করেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা সেটা জানতে পেরে উপ-পরিচালককে সভা চলাকালে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনা স্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলে সেখানে তিনি তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং লিখিত মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান। এছাড়াও সিপিপির কমিটি নতুন করে পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, উপ-পরিচালক গোলাম কিবরিয়া এর আগে কোনো সভা না করেও তিনটি সভা দেখিয়ে তিন লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে একতরফাভাবে কয়রায় সিপিপির কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন না করে সম্প্রতি ওই কমিটির অনুকূলে নিরাপত্তা সামগ্রী, বাইসাইকেলসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করায় কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে কাউকে না জানিয়ে অনেকটা চুপিসারে উপ-পরিচালক খামখেয়ালিভাবে ছুটির দিনে অতিগোপনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা করা অবস্থায় জনগণ তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে ছুটির দিনে তিনি তার ইচ্ছামাফিক সভা করায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিপিপির খুলনার উপ-পরিচালক গোলাম কিবরিয়া তার ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সভা না করে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুল তো মানুষে করে। তবে এটি ইচ্ছাকৃত ভুল নয়।
সিপিপির পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আবেদীন যানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তদন্তপূর্বক প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন