

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার গ্রামীণ প্রকৃতি বিকাশ লতা ফুলের সৌন্দর্যে মেতে উঠেছে। এ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে হেমন্তের প্রকৃতি যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রকৃতিপ্রেমীসহ নানা বয়সী মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে মনোমুগ্ধকর এ ফুল।
স্থানীয়রা জানান, বিকাশ লতা সাধারণত দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং ঝোপালোভাবে বেড়ে ওঠে। সবুজ পাতাবিশিষ্ট প্যাঁচানো লতার গায়ে ছোট ছোট আকারের থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। সূর্যের আলোয় ফুটে থাকা এসব ফুল যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক অনন্য শিল্পকর্ম।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কের পাশে, ঝোপঝাড়ে, বিভিন্ন জলাশয়ের পাড় ঘেঁষে বিভিন্ন গাছে জড়িয়ে থাকা লতাগুলোতে ফোটা বিকাশ লতা ফুলের লোভনীয় সৌন্দর্য গ্রামীণ প্রকৃতিকে আরও বেশি রঙিন করে তুলেছে। প্রজাপতি, কীটপতঙ্গ, পাখি ও মৌমাছিরাও বিকাশ লতা ফুল ঘিরে ভিড় করছে, যা স্থানীয় পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা তৈরি করেছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য মন ভুলিয়ে দেওয়ার মতোই অসামান্য সুন্দর।
জানা গেছে, বিকাশ লতা বা মিকানিয়া লতার বৈজ্ঞানিক নাম মিকানিয়া মাইক্রান্থা। বিকাশ লতা বা মিনাকিয়া হচ্ছে একটি গণ যারা কয়েকশ প্রকার সপুষ্পক লতা জাতীয় উদ্ভিদ। মিনাকিয়া গণভুক্ত প্রায় সাড়ে চারশো ধরনের প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে মিকানিয়া মাইক্রান্থা এবং মিকানিয়া স্ক্যান্ডেন্স এই দুটি প্রজাতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিকাশ লতা বলতে এই দুটিকেই বোঝানো হয়।
বিকাশ লতা বা মিকানিয়া লতার আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। এটি অতি দ্রুত বর্ধনশীল উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদের পাতা সবুজ। এ উদ্ভিদটি সাধারণত অন্য উদ্ভিদে জড়িয়ে বেড়ে ওঠে। বিকাশ লতা উদ্ভিদে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। এর ফুলের রং সাদা। ফুলের আকার ছোট, দেখতে বেশ সুন্দর।
বিকাশ লতা বা মিকানিয়া লতাকে ইংরেজিতে মাইল-আ-মিনিট নামে ডাকা হয়। এছাড়াও এই লতাটি রিফিউজি লতা, রাবণলতা, জার্মানি লতা, যশুরেলত, আসাম লতা ইত্যাদি নামেও পরিচিত। এটি ভেষজ চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা জানান, শুধু সৌন্দর্য নয়, এ ধরনের গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য ও গ্রামীণ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাটি রক্ষা ও ছোট প্রাণীর আবাস তৈরিতেও বিকাশ লতার মতো এমন লতাগুলোর অবদান রয়েছে। এছাড়াও এসব উদ্ভিদ মানুষের নানা রোগ নিরাময়েও প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ আজাদ বলেন, এ সময়টায় অনেক স্থানেই এই ফুল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এ ফুল এমনভাবে ফোটে ফুলের জন্য গাছের পাতাও ঠিকমতো দেখা যায় না। ফুলগুলো ছোট আকারের হলেও থোকায় থোকায় ফোটে বলে এ ফুলের সৌন্দর্য বিমুগ্ধ হওয়ার মতো সুন্দর। সৌন্দর্যপ্রেমীদের মন ভালো করে দিচ্ছে সাদা রঙের এ ফুল।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদা আফরিন লাইজু বলেন, ঋতুভেদে গ্রামীণ প্রকৃতিতে নানারকম ফুল ফোটে। এসব ফুল গ্রামীণ পরিবেশকে রাঙিয়ে তোলে। গ্রামীণ প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে তেমনই এক ফুল বিকাশ লতা। এই সময়টায় এ ফুলের সৌন্দর্য সচরাচর চোখে পড়ছে। একসঙ্গে অনেক ফুল ফোটার কারণে এ ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন অনেকেই।
স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নূরে আলম মুনসী বলেন, এ সময়টায় বিকাশ লতা ফুলের উপস্থিতি যেন প্রকৃতিকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। নীরব প্রকৃতির এই রঙিন সৌন্দর্য মানুষের মনেও এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করছে। গ্রামের মেঠো পথের ধারে বিভিন্ন গাছে জড়ানো লতায় পর্যাপ্ত ফুল ফুটেছে। আসা-যাওয়ার পথে হঠাৎ হঠাৎ চোখ পড়ছে এ ফুলের সৌন্দর্য। এ ফুলের সৌন্দর্যে যেন চোখ জুড়িয়ে যায়।
মন্তব্য করুন