

ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদীতে তীব্র কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল স্থগিত রয়েছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তে অন্তত ৪টি ফেরি আটকা পড়েছে। একই সঙ্গে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, প্রাইভেটকার ও ছোট যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও ঘন কুয়াশার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে যাত্রী পারাপার করতে দেখা গেছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনেক চালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে না পেরে তারা হতাশ। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে, কারণ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, কুয়াশার তীব্রতা কমে নদীতে পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা ফিরে এলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা হবে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত যাত্রী ও যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে ফেরি বন্ধের সুযোগে কিছু ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন কালবেলাকে জানান, নদীতে দৃশ্যমানতা একেবারে কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান বিবেচ্য। কুয়াশা কেটে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।
মন্তব্য করুন