

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ও দলটির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছি। এ নির্বাচন সফল হলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা সম্ভব হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আসাদনগরে আয়োজিত দুটি নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জুনায়েদ সাকি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে— একদিকে জুলাই জাতীয় সনদ পাস হবে, অন্যদিকে আগামী সংসদকে সেই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতা দেওয়া হবে। আগামী সংসদ প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে এবং একই সঙ্গে পাঁচ বছর পূর্ণ জাতীয় সংসদের দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য, এর কোনো বিকল্প নেই। তাই কেউ যেন নির্বাচন বানচাল করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনে টাকার খেলার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, মানুষ কি টাকার খেলায় হারবে? মানুষের ভোটের অধিকার কি টাকার কাছে তুলে দেওয়া হবে? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, মানুষ টাকার খেলায় হারবে না।
কৃষি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে হবে। কৃষি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে স্থানীয় বিনিয়োগে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তরুণরা যুক্ত হবে, যা বাঞ্ছারামপুরকে মাদক ও সন্ত্রাসের কবল থেকে রক্ষা করবে।
তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতি, কামার-কুমারসহ খেটে খাওয়া মানুষ যদি তাদের ন্যায্য হিস্যা না পায়, তাহলে দেশে শান্তি আসবে না। এজন্য মজুরি ও আয়-বৈষম্য কমানো এবং বয়স্ক, নারী ও আয়ের সুযোগহীন মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, খাদ্যের পাশাপাশি ডিজিটাল অধিকার— বিশেষ করে ইন্টারনেট— আজ মৌলিক অধিকারে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জুনায়েদ সাকি বলেন, নারী, শিশু, তরুণ ও বয়স্ক— সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়। সামাজিকভাবে এসব প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিতাস ও মেঘনা নদীবেষ্টিত বাঞ্ছারামপুরের পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নদী, মাটি, পানি ও বাতাস রক্ষা না করতে পারলে ভবিষ্যৎ টেকসই হবে না। এজন্য নতুন করে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন